দেশীও ফল আমড়ার পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও জনপ্রিয় রেসিপি

 

আমড়া ফলটি আমাদের দেশের একটি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু মৌসুমী ফল। এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল ,যা খেতে টক ঝাল মিষ্টি হওয়ায় সবার কাছে জনপ্রিয়।


দেশীও-ফল-আমড়ার

 আজকে আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানব আমড়া ফলের নানারকম পুষ্টিগুণ, খাওয়ার উপকারিতা এবং সেই সাথে কি কি পদ্ধতিতে দেশীও ফল আমড়া খাওয়া যায় রেসিপি সহ। 

সূচিপত্রঃ দেশীয় ফল আমড়ার পরিচিতি ও রেসিপি

আমড়া ফলের পরিচিতি

আমড়ার গাছ সাধারণত ২০ থেকে ৩০ ফিট উঁচু হয়ে থাকে, একটি আমড়া গাছে ফল দিতে ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগে, এছাড়াও শুধু পারিবারিক চাহিদা মেটাতে ছাদেও কলম গাছ লাগানো যায়, সেখানে ছোট গাছে ১ -২ বছরের মধ্যে আমড়া ফলন দিয়ে থাকে। এই ফল সাধারণত আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে আমড়া ফলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে, বিশেষ করে বরিশালের আমড়া সবাই পছন্দ করে। ২০২০ সালে ৩০ শে এপ্রিল আমড়া ফলকে  বরিশালের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জি আই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে।আমড়া ফল বাংলাদেশ সহ ইন্দোনেশিয়া, ভারত ,শ্রীলংকা ও আফ্রিকাতেও ভালোই ফলন হয়। 

দেশীও-ফল-আমড়ার


আমড়া ফলটি কাঁচা অবস্থায় টক হলেও পাকলে অনেকটাই টক ভাব কমে যায় , এটি টক মিষ্টি হওয়ায় প্রায় সবার কাছেই বেশ জনপ্রিয় । আমড়া ফলে রয়েছে শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান,  সেইসাথে আমড়া ফল খেলে মুখের রুচিও অনেকটা বেড়ে যায়। আমড়া ফল শুধু লবণ মরিচ দিয়ে মাখিয়ে কাঁচা খাওয়া যায়না ,এছাড়াও আরো  বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া যায়।যেমন আমড়া ফল দিয়ে আচার , চাটনি ও টক ডাল  ,যে কোন টক তরকারি রান্নাতে ব্যবহার করা হয় । নিয়ম করে আমড়া  ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নানান রকম শারীরিক জটিলতা থেকেও মুক্ত থাকা যায়।

আমড়ার পুষ্টিগুণ ও খাদ্য উপাদান

আমড়া এমন একটি দেশীয় ফল যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও খনিজের উপাদান। বিশেষ করে ক্যালসিয়ামের ও ভিটামিন সি এর বড় উৎস হল আমাদের দেশের এই দেশীয় ফল আমড়া। পুষ্টিবিদদের তথ্যমতে,একটা কমলার থেকে প্রায় দ্বিগুন পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে আমাদের দেশীয় ফল আমড়ার মাঝে।   প্রতি ১০০ গ্রাম খাওয়ার যোগ্য কাঁচা আমড়াতে কি কি পরিমান পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা নিচে ছক আকারে এক ঝলক দেখে নেয়া যাক।

পুষ্টি উপাদান পরিমাণ(প্রতি ১০০ গ্রামে)
শক্তি ৬৬ কিলোক্যালরি
পানির পরিমাণ ৮২,৬ গ্রাম
প্রোটিন ১,১ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট ১৫ গ্রাম
খাদ্য আঁশ/ফাইবার ২,২ গ্রাম
ভিটামিন সি ৯২ মিলিগ্রাম
ক্যালশিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম
আয়রন ৩,৯ মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ ৮০০ মাইক্রোগ্রাম
ফ্যাট / চর্বি ০,১ গ্রাম

আমড়া খাওয়ার নানান রকম স্বাস্থ্য উপকারিতা

আমড়া ফলের সিজনে দৈনন্দিন খাদ্যাভাসে যদি ১-২টি আমড়া রাখা যায়, তাহলে এটি স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিচে আমড়া ফল খাওয়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ আমড়া ফলে  রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, যা শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরের অ্যান্টিবডিকে শক্তিশালী করে তোলে। শীতকালের ভাইরাসজনিত নানারকম সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আমড়া ফল সাহায্য করে , এছাড়াও সর্দি, কাশি এগুলা থেকেও আমড়া ফল খেলে উপকার পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ গ্রীষ্মকালীন ফল কাঁঠাল খাওয়ার নিয়ম ও গুনাগুন

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণঃ আমড়াতে থাকা দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবারের উপস্থিতির কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য গ্যাস ও বদ হজম দূর করতে দারুন কার্যকরী। এছাড়াও আমড়ার অম্ল উপাদান পাকস্থলীর  খাদ্যের হজম শক্তি বাড়ায়।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধঃ আমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন। আয়রন হচ্ছে শরীরের লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। এর সাথে ভিটামিন সি ও আয়রন এর উপস্থিতির থাকার কারণে যাদের রক্তস্বল্পতা সমস্যা আছে তারা নিয়মিত আমরা খেলে সহজে উপকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

হার ও দাঁত মজবুতঃ মানব শরীরের হারের জন্য যেমন ক্যালসিয়াম প্রয়োজন ও দাঁতের জন্য ফসফরাস।এই দুই উপাদানই আমড়া ফলের মধ্যে বিদ্যমান । যাদের হাড় ক্ষয় রোগ রয়েছে তারা এই রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত আমড়া খেতে পারে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোঃ বেশিরভাগ লোকেরই ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল সমস্যা রয়েছে,আর যাদের এই সমস্যা রয়েছে তারা নিয়ম করে আমড়া  খেতে পারে । কেননা আমড়াতে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল রাশ করতে সাহায্য করে, এছাড়াও পটাশিয়াম উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রেখে তন্ত্র যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

স্কার্ভি ও মুখের ঘা দূরীকরণঃ আগেই বলেছিলাম আমড়া  তো রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, এই ভিটামিন সি মানবদেহের নানা রকম জটিল সমস্যার সমাধান করে, যেমন অনেকেরই স্কার্ভি রোগ হয় যার ফলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, মুখে ঘা দেখা যায় ,এই সব রোগের প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে আমড়া ফল খেতে পারে ,আমড়া ফলে ভিটামিন সি থাকায় মাড়ির স্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং দাঁতের গোড়াকে শক্ত রাখে। 

ত্বক ও চুলের যত্নে দেশীও ফল আমড়ার ভূমিকা 

আমরা ফলের একটি বড় গুণ হল এটি শুধু শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখে না ,বাইরে থেকেও ত্বক ও চুলের সৌন্দর্যের বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমড়া  ফলের উপকারগুলো তুলে ধরা হলো। 

  1. কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়ঃ মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় দেখা যায় ,অনেকের বয়স অনুযায়ী বয়স বেশি লাগে। এসব সমস্যা থেকে দূরে থাকার জন্য  ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়া ভালো। এর মধ্যে রয়েছে আমড়া ফল, যে যাতে ভিটামিন সি বিদ্যমান। আমড়া ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি শরীরের কোলাযেন  প্রোটিন গঠনের সাহায্য করে। কোলাযেন ত্বককে করে টানটান এবং বয়সের ছাপ বা বলিরেখা সহজে পড়তে দেয় না।
  2. ব্রণ প্রতিরোধঃ আমড়া  ফলে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়া উপাদান, যা মানুষের ত্বকের টক্সিন দূর করে ব্রণ ও ফুসকুড়ির উপদ্রব কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
  3. চুলের গোড়া শক্ত করেঃ চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত রাখার জন্য আমড়া ফল বেশ উপকারী ।রক্তের সঞ্চালন স্বাভাবিক রেখে এবং আয়রনের যোগান দিয়ে আমড়া ফলের ভিটামিন চুলকে মজবুত করে, ফলে চুল পড়া অনেকটাই কমে যায়।

গর্ভকালীন সময়ে আমড়া খাওয়া কতটা উপকারী

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মাকেই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বেশ জরুরী হয়ে পড়ে, গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন রকম ফল-মূল খেতে হয় । আমাদের দেশে বাহির থেকে আশা নানা রকম ফল রয়েছে,  ওই সব বিদেশি ফলের মাঝে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফরমালিন এবং দামেও বেশ চড়া,এইসব ফরমালিন মুক্ত ফল খাওয়ার চেয়ে আমাদের দেশীয় ফল খাওয়া বেশ উপকা্রী। দেশীও ফলের মধ্যে দামে সাশ্রয়ী হচ্ছে  আমড়া ফল,  দেশীয় বিভিন্ন ফলের মধ্যে আমড়া ফল যা মা ও শিশুর জন্য খুবই উপকা্রী।

  • বমি ভাব দূরঃ গর্ভাবস্থায় অনেকেরই সকালে বমি বমি ভাব এবং মুখে অরুচি দেখা দেয়।( আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি গর্ব অবস্থায় প্রচুর বমি হতো তখন দেশীয় টক জাতীয় ফল খেলে বেশ আরাম অনুভব হতো) আমড়ার টক ঝাল মিষ্টি সাধ্য মুখের অরুচি মেটাতে এবং বমি বমি ভাব কমাতে দারুণ কাজ করে।।
  • গর্ভস্থ শিশুর হাড় গঠনের সাহায্যঃ আমড়াতে থাকা ক্যালসিয়াম ও আয়রন গর্ভস্থ শিশুর হাড়, দাঁত এবং রক্ত চলাচলে সঠিক ও প্রয়োজনীয় উপাদান পৌঁছে দেয় এবং  বর্জ্য পদার্থ অপসারণ এর সাহায্য করে।
  • গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য হ্রাসঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের একটা কমন সমস্যা তা হচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। আমড়াতে থাকে ফাইবার এই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। তাই গর্ভাবস্থায় ফাইবার সমৃদ্ধ ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

আমড়া খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও সর্তকতা 

যেকোনো পুষ্টিকর খাবারই অতিরিক্ত গ্রহণ করলে এর হিতে বিপরীত হতে পারে ,অনেকে চিন্তা করে যে এই ফলে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি আছে তাই বেশি বেশি করে খেয়ে নিই ,তাতে পুষ্টি বেশি পাওয়া যাবে। আমড়ার ক্ষেত্রেও সেম একই কথা ,মুখের স্বাদের জন্য অতিরিক্ত না খাওয়াই উচিত ।

  1. এসিডিটি সমস্যাঃ আমড়াতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় প্রাকৃতিক এসিড, অতএব যাদের গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা রয়েছে ,তারা আমড়া খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করবেন।কেননা অনেক সময় দেখা যায় আমড়া খেলে পেট জ্বালাপোড়া করে , পেট ব্যথা করে ,তাই অল্প পরিমাণে খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
  2. দাঁতের এনামেল ক্ষয়ঃ কাঁচা আমড়া প্রচুর টক ভাব থাকার কারণে অতিরিক্ত খেলে দেখা যায় দাঁত শিরশিরানি করে বা দাঁতের এনামেলের ক্ষতি হয় ।
  3. পেট খারাপঃ অনেক সময় দেখা যায় পরিমাণ এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আমড়া খেলে পেট খারাপ হয়  আবার ডায়রিয়াও হতে পারে।

আমড়া কয়টি জনপ্রিয় ও সুস্বাদু রেসিপি 

আমড়া এমন একটি ফল যেটি কাঁচা অবস্থায় মরিচ, লবণ দিয়ে মেখে খাওয়া যায় আবার বিভিন্ন রকম ভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। যেমন  আমড়া ফলের আচার, আমড়া ফলের চাটনি, আমড়া ফল দিয়ে টক ডাল অথবা ছোট মাছের চচ্চড়ি সাথে আমড়া ফল খেতে বেশ লাগে । আমড়া  অনেক রকম ভাবে রান্না করে খাওয়া যায় ,তবে আমি নিচে মাত্র  ৩টা আমড়া ফলের জনপ্রিয় রেসিপি দেওয়া দেওয়ার চেস্টা করলাম।

আমড়ার টক ঝাল মিষ্টি আচার

 আমড়া ফলের  টক-ঝাল মিষ্টি আচার বানানোর জন্য যে সব উপকরণ লাগবে সেগুলো হলোঃ আমড়া  ১ কেজি, পরিমাণ মতো সরিষার তেল , এক কাপ চিনি  (আপনি যেরকম মিষ্টি খেতে চান সেরকম পরিমাণে চিনি দিতে পারেন), পাঁচফোড়ন , শুকনো মরিচ গুড়া একটা চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ ,রসুন , লবণ ও বিট লবণ স্বাদমতো , আস্ত সরিষা ,ভিনেগার , ২ টা পাকা তেতুল ও শুকনা মরিচ।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের বাহারি জাতের আম ও তাদের পুষ্টিগুণ

প্রস্তুত প্রণালীঃ আমড়ার আচার বানানোর শুরুতে আপনি পাকা তেতুলগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। পরে আমড়া গুলো ছিলে ভাল করে পানিতে ধুয়ে কষগুলো বাহির করে নিবেন। তারপর আমড়া  গুলোকে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিয়ে একটা বাটিতে নিয়ে লবণ ও মরিচের গুঁড়া দিয়ে মেখে রাখবেন ১০ মিনিট। তারপর  কয়েক ফালি রসুন এক চামচ আস্ত ধনিয়া, এক চামচ পাঁচফোড়ন ও ১ চামচ আস্ত সরিষা এবং তিন থেকে চারটা শুকনো  মরিচ নিয়ে একসাথে সবগুলো ব্লেন্ড করে নিবেন।  মসলা ব্লেন্ড করার পরে চুলাতে একটি কড়াই বসাবেন। কড়াইতে পরিমাণ মতো সরিষার তেল দিবেন, সরিষার তেল গরম হয়ে আসলে এ তেলের মাঝে.৪-৫ কোয়া রসুন ও ৩-৪টা শুকনা মরিচ সাথে অল্প গরম মসলা সব একসাথে দিয়ে এই গুলো সুন্দর করে ভেজে নিবেন, ভাজা হয়ে গেলে দেখবেন সুন্দর একটি স্মেল এর আসতেছে। তখন যে মিক্সড  মসলাটা আছে সেই মসলাটা কড়াইতে ঢেলে দিবেন, ঢালা হয়ে গেলে সামান্য হলুদ গুঁড়া দিয়ে সুন্দর করে মিক্সড মসলা টা কষিয়ে নিবেন । কষানো হয়ে গেলে  মরিচ , লবণ দিয়ে মেখে রাখা আমড়া গুলো দিয়ে ভালো করে  নেড়ে চেড়ে সুন্দর করে সিদ্ধ করে নেবেন। এ সময় চুলার আঁচ লো হিটে রাখবেন।  আমড়া গুলো সিদ্ধ হয়ে গেলে  আপনার ইচ্ছে মত চিনি ও  তেতুল গোলানো পানিটুকু দিবেন । তারপর আস্তে আস্তে আচার তৈরি করবেন ।যখন দেখবেন যে আচারের থেকে সমস্ত পানি শুকিয়ে গেছে এবং আচার আঠালো ভাব তৈরি হয়েছে তখন আচারের মাঝে বিট লবণ ও ভিনেগার দিবেন।( ভিনেগার দিলে হয় কি আচারটা অনেকদিন ভালো থাকে, না দিলেও হবে) আচারটা নামানোর আগে আচারের উপরে পাঁচফোড়ন ও শুকনা মরিচ ভেজা গুড়া করে দিয়ে নামিয়ে নিবেন। তারপর ঠান্ডা হয়ে গেলে কাচের বোয়ামে ভরে রেখে দিবেন, এভাবে আপনি অনেকদিন সংরক্ষণ করে খেতে পারবেন। (সেম প্রসেসে আমরা চাটনি তৈরি করা যায় ,শুধু আমরা গুলো আগে পানি ভালো করে সিদ্ধ করে নিতে হব)

আমড়ার জুস

গরমে রিফ্রেসিং আরামের জন্য কাঁচা আমড়ার জুস খেতে পারেন ,কাঁচা আমরা জুসের জন্য উপকরণগুলো হলো কচি কাঁচা আমরা কুচি এক কাপ, ধনিয়া পাতা, কাঁচা মরিচ ,(১/২ টি), বিট লবণ ১ চা চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, ঠান্ডা পানি দুই গ্লাস,ও বরফ কুচি পরিবেশনের জন্য ।

দেশীও-ফল-আমড়ার


প্রস্তুত প্রণালীঃ শুরুতেই আমড়া খোসা ছড়িয়ে আমরা গুলো ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিন, আমড়ার ভিতরে বিচিটা ফেলে দিয়ে নেবেন,তারপর ব্লেন্ডারে আমড়া টুকরো ,বিট লবণ ,,কাঁচা মরিচ ,ধনিয়া পাতা ,চিনি ও সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। ব্লেন্ড  করা হয়ে গেলে মিশ্রণটি ছাকনি দিয়ে ছেকে নিন ,যাতে আমড়া শক্ত অংশগুলো আলাদা হয়ে যায়। তারপর গ্লাসে জুসগুলো ঢেলে নিন ,জুসের উপরে বরফগুলো  এড করে  পরিবেশন করুন। 

ছোট মাছের তরকারি

উপকরণঃ বিভিন্ন রকম পাঁচমিশালী ছোট মাছ , পিয়াজ কুচি, তেল, এক চা চামচ মরিচের গুঁড়া,  কয়েক ফালি কাঁচা মরিচ, হলুদের গুঁড়া, ধনিয়ার গুঁড়া , লবণ ও মাঝারি সাইজের একটি আমড়া।

প্রস্তুত প্রণালীঃ শুরুতে কড়াইতে তেল দিন , পেঁয়াজ কুচি , মরিচ কুচি এই সামান্য মরিচের গুড়া , পরিমাণমতো হলুদের গুঁড়া ,ধনিয়ার গুড়া ও লবণ দিয়ে সুন্দর করে মসলাটা হাত দিয়ে কচলিয়ে মাখিয়ে নিবেন। মাখা হয়ে গেলে মাছ গুলা এড করুন। মাছের সমপরিমাণ পানি দিয়ে কড়াইটা চুলাতে বসিয়ে দিন। মাছগুলো বলক আসলে করে কয়েক ফালি আমড়া  উপরে ছিটিয়ে দিন ।রান্নাটা সম্পূর্ণ করে নামিয়ে নিন। এটা গরম ভাতের সাথে খেতে দারুন লাগে।(আমড়া দিয়ে আপনি  টক মুসুরির ডাল রান্না করতে খেতে পারেন, তারপর হচ্ছে কচুর মুখীও  টক ঝোল রান্না করে খেতে পারেন)

দৈনিক কতটুকু আমড়া খাওয়া নিরাপদ

যেকোনো ধরনের খাবার খাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে ,মুখের স্বাদ লাগার জন্য বা অতিরিক্ত পুষ্টি ভেবে বেশি বেশি কোন কিছুই খাওয়া যাবে না ।একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১_ ২ টি আমরা খেলেই যথেষ্ট। এই টুকুর মাঝেই প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা হয়ে যায় । এছাড়াও অতিরিক্ত টক জাতীয় ফল একেবারে বেশি বেশি না খাওয়াই ভালো এতে পাকস্থলীতে এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়,যাদের এসিডিটির সমস্যা রয়েছে তারা কখনোই খালি পেটে আমরা খাবেন না, চেষ্টা করবেন দুপুরের খাবারের পর বা বিকেলে আমড়া খেতে

উপসংহার

আমড়া ফল আমাদের দেশীয় একটি ফল, এটি সহজলভ্য এবং সস্তা যা অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। আমড়ার মাঝে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ইমিউনিটি যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সব সময় কৃত্তিম ভিটামিন না খেয়ে চেষ্টা করবেন দেশীয় এসব ফল খাওয়ার জন্য , এছাড়া বিদেশি ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফরমালিন, আমড়া এমন একটি ফল যাতে ফরমালিন মিশানোর প্রয়োজন পড়ে না।  এমনিতেই কয়েকদিন সতেজ থাকে। আপনার দৈনন্দিন খাবার আমড়ার সিজনের সময় আপনি প্রতিদিন একটি আমড়া ফল রাখতে পারেন। এছাড়াও এই ফলের মুখোরুচক আচার ও চাটনি বানিয়ে সারা বছরের জন্য সংরক্ষণ করে রেখে খেতে পারেন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

bosontobouryনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Tania Akter
Tania Akter
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অর্ডিনারি আইটির শিক্ষার্থী। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ২ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।