গ্রীষ্মকালীন ফল কাঁঠাল খাওয়ার নিয়ম ও গুনাগুন
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল হচ্ছে বিভিন্ন দেশীয় ফল খাওয়ার মৌসুম। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, জামরুল আরও অনেক রকম দেশীয় ফল পাওয়া যায় কিন্তু এর মধ্যে কাঁঠাল বাঙালির খাদ্য রসনাবিলাসের অন্যরকম মাত্রা যোগ করে । গ্রীষ্মের তীব্র গরমের মাঝে কাঁঠালের মিষ্টি সুভাষ আর রসালো স্বাধ এককথায় অন্যরকম মাত্রা যোগ করে।
এটি কেবল খেতেই সুস্বাদু নয় বরং এই কাঁঠালের মাঝে রয়েছে বিশাল এক পুষ্টিভান্ডার, ভিটামিন, খনিজ, এন্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইবারে ভরপুর। কাঁঠাল স্বাস্থ্যের জন্য জন্য খুবই উপকারী। আজকে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানবো কাঁঠালের পুষ্টিগুণ স্বাস্থ্য উপকারিতা ও অপকারিতা, কাঁঠাল সঠিক খাওয়ার নিয়ম ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
সূচিপত্রঃ গ্রীষ্মকালীন ফল কাঁঠাল খাওয়ার পুষ্টি গুনাগুন
- কাঁঠালের পরিচিত ও পুষ্টি উপাদান সমূহ
- কাঁঠাল খেলে স্বাস্থ্যের কি উপকার হয়
- কাঁঠালের বিচির ব্যবহার পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ সমূহ
- শুধু পাকা নয় কাঁচা কাঁঠাল খাওয়ার পদ্ধতি ও গুণাগুণ।
- কাঁঠাল খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সময়
- কাঁঠাল খাওয়ার পর যেসব খাবার খাওয়া নিষেধ
- অতিরিক্ত কাঁঠাল খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
- ডায়াবেটিস রোগীরা কি কাঁঠাল খেতে পারবে ?
- ডায়েট করা অবস্থায় কাঁঠালের ভূমিকা
- কাঁঠাল নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা
- উপসংহার
কাঁঠালের পরিচিতি ও পুষ্টি উপাদান সমূহ
কাঁঠাল মোরাসিয়া পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যা ডুমুর বা রুটি ফল প্রজাতি, কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম হল অর্টোকার্পাস হেটেরোফিলাস। কাঁঠাল শুধু বাংলাদেশের সরকারি ভাবে জাতীয় ফল হিসাবে নির্ধারিত নয়, পাশাপাশি এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফল এবং ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ু এর রাজ্য ফল হিসেবে পরিচিত। কাঁঠাল শুধু পাকা অবস্থায় নয় বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে দিকে কাঁচা কাঁঠাল তরকারি হিসাবেও রান্না করে খাওয়া হয়।পৃথিবীতে যত ধরনের ফল আছে কাঁঠাল আর সবচেয়ে বড় ফল। এক একটি কাঁঠালের ওজন প্রায় ৫৫ কেজি (১২০) পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। কাঁঠাল এর উপরের ত্বকটি কাটাযুক্ত হলেও ভিতরে কোষগুলো রসালো ,মিষ্টি, নরম হয়ে থাকে। কাঁঠালকে বলা হয় পুষ্টির হাউজ কেননা এতে চর্বির পরিমাণ অত্যন্ত কম এবং ক্ষতিকর কোন কোলেস্টেরল নেই।
প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠালের সাধারণত যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, তা নিচে ছক আকারে দেওয়া হল।
| পুষ্টি উপাদান | পরিমাণ (প্রতি ১০০ গ্রামে) |
|---|---|
| ক্যালোরি | ৯৫ কিলোক্যালোরি |
| কার্বোহাইড্রেট | ২৪ গ্রাম |
| প্রোটিন | ১,৭২ গ্রাম |
| ফাইবার (আঁশ) | ১,৫ গ্রাম |
| ভিটামিন সি | ১৩,৭ মিলিগ্রাম |
| পটাসিয়াম | ৪৪৮ মিলিগ্রাম |
| ক্যালসিয়াম | ২৪ মিলিগ্রাম |
| ম্যাগনেসিয়াম | ২৯ মিলিগ্রাম |
| ভিটামিন এ | ১১০ আইইউ (IU) |
কাঁঠাল খেলে স্বাস্থ্যের কি উপকার হয়
কাঁঠালে থাকা বৈচিত্র্যময় পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরের বিভিন্ন রকমের রোগ বালাই থেকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে। যেমন ধরেন আপনি যদি নিয়মিত কাঁঠাল খান তাহলে সর্দি কাশি এবং বিভিন্ন ফ্লো থেকে রক্ষা পেতে পারেন। কাঁঠালের প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের শরীরে রক্ত কণিকার কার্যক্রমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
- কাঁঠাল হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনন্য ভূমিকা রেখে থাকে, কাঁঠালে আছে উচ্চ আশ ও ফাইবার , এই ফাইবার আমাদের আমাদের পেটের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং যাদের দীর্ঘমেয়াদী কুষ্ঠকাঠিন্য রোগ রয়েছে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনে।
- কাঁঠালে আছে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম, এই পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়াম এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং রক্তনালীকে সচল রাখতে সাহায্য করে, এর ফলে যাদের হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে থাকে। যা থেকে স্ট্রোকের মত সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক এর মত সমস্যাগুলো অনেক অংশে দমিয়ে রাখতে সাহায্য করে ।
- এছাড়া কাঁঠালের রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং বিটা-ক্যারোটিন । ভিটামিন এ এটি চোখে রেটিনা কে সুরক্ষা রাখে এবং বয়সজনিত দৃষ্টি হ্রাস ও ছানি পড়া প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও প্রচুর ভূমিকা রাখে, অতএব ভিটামিন ও বিটা-ক্যারোটিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
- যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন তারা প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল খেতে পারেন ,কেননা রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীদের জন্য কাঁঠাল ব্যাস উপকারী, কাঁঠালের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও তামা, এই উপাদান গুলো রক্তে লোহিত কণিকা তৈরিতে এবং রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে ভূমিকা রাখে।
- ত্বক ও চুলের জন্য কাঁঠাল বেশ উপকারী। কাঁঠালের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান যা শরীরের ফ্রী রেডিক্যাল এর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং বার্ধক্যের ছাপ সহজে পড়তে দেয় না। বিশেষ করে এই কাঁঠাল ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে বাড়ায় এর ফলে ত্বক থাকে টানটান এবং বলিরেখা মুক্ত। এছাড়া কাঁঠালের হয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমায়।
কাঁঠালের বিচি খাওয়ার পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ সমূহ
অনেকেই আছে কাঁঠাল খেতে চায় না কিন্তু কাঁঠালের বিচি খেতে খুবই পছন্দ করে। এছাড়া বাজারে কাঁঠালের বিচি আলাদা ভাবে কেজি হিসেবেও বিক্রি করে থাকে। কাঁঠালের বিচি বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া যায় । বিশেষ করে কাঁঠালের বিচি শুকিয়ে মাটির তাওয়ায় ভেজে খাওয়ার মজাই অন্যরকম, এছাড়া ভর্তা করেও খাওয়া যায় ,এই ভর্তা অন্যরকম একটা খাবারের মাত্রা যোগ করে।এছাড়া শুটকি দিয়ে কাঁঠালের বিচি রান্না করে খাওয়া যায়, গরুর মাংসে কাঁঠালের বিচি রান্না করে খাওয়া যায়, বিভিন্ন সবজিতে আলুর পরিবর্তে ও কাঁঠালের বিচি ব্যবহার করা যায়।
অনেকে আবার দেখা যায় কাঁঠালের বিচি দিয়ে রূপচর্চা করে থাকে। ত্বকের যত্নে কাঁঠালের বিচি গুঁড়ো করে দুধ ও মধুর সাথে মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বকের দাগ ছোপ দূর করে ।
কাঁঠালের বিচির পুষ্টিগুণ
কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে থায়ামিন ও রিবোফ্লাভিন। থায়ামিন ও রিবোফ্লাভিন এই দুইটাই ভিটামিন বি ক্যাটাগরিতে পড়ে, ভিটামিন বি শরীরের শক্তি সঞ্চয়ের পাশাপাশি নার্ভাস সিস্টেম ,হার্ট, ব্রেন, মাংসপেশি ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করে । এছাড়া কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে ফাইবার ও রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ। কাঁঠালের বিচি শরীরে সহজে হজম হয় না কিন্তু পাকস্থলীতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসাবে কাজ করে । এছাড়া কাঁঠালের বিচি শরীরের সেনসেটিভ ইনসুলিন এর উন্নতি ঘটায়।
শুধু পাকা নয় কাঁচা কাঁঠাল খাওয়ার পদ্ধতি ও গুণাগুণ
কাঁঠাল শুধু পাকা অবস্থায় খাওয়া যায় না, সাথে কাঁচা কাঁঠালের তরকারিও খুব সুস্বাদু হয়। বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে কাঁচা কাঁঠালের তরকারি অনেক জনপ্রিয় একটি পদ । অনেকে এটাকে নিরামিশ মাংস বলে থাকেন, অনেকে বলে থাকেন কাঁচা কাঁঠালের রান্নার তরকারির টেক্সচার প্রায় মাংসের মত। কাঁচা কাঁঠাল চিংড়ি মাছ ,বুটের ডাল, গরুর মাংস ও মুরগির মাংস দিয়ে রান্না করা যায়।
আরো পড়ুনঃবাংলাদেশের বাহারি জাতের আম ও তাদের পুষ্টিগুণ
ওজন কমাতেঃ কাঁচা কাঁঠালে ক্যালরির পরিমাণ পাকা কাঠালের ক্যালরির পরিমাণ থেকে অনেক কম থাকে , কাঁচা কাঁঠাল খেলে সহজে ক্ষুধা লাগে না, অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। যারা ওজন কমাতে চান তারা কাঁচা কাঁঠাল খেতে পারেন, কেননা কাঁচা কাঁঠাল ও শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে ।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণঃ অনেকে আছেন ডায়াবেটিসের ভয়ে কাঁঠাল খেতে চান না কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা কাঁচা কাঁঠাল নির্ভয় খেতে পারেন। কেননা কাঁচা কাঁঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক কম থাকে ,ফলে এটি রক্তের শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না।
কাঁঠাল খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সময়
যেকোনো খাবারই একটা নির্দিষ্ট নিয়ম বা পরিমিতি রয়েছে । সেটা ফল বা মিষ্টি জাতীয় যেকোনো খাবারই হোক না কেন, আর কাঁঠাল যেহেতু একটি ভারী আঁশযুক্ত ফল তাই এটি খাওয়ার সময় বিশেষ কিছু নিয়ম মাথায় রাখা জরুরী ।
- সঠিক সময়ঃ কাঁঠাল খাওয়ার সেরা সময় হল সকাল বা দুপুর, খুব সকালে খালি পেটে কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো, সকালের নাস্তার পর বা দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি সময়ে কাঁঠাল খেলে সবচেয়ে ভালো হয়। তাহলে গ্যাসের প্রব্লেম এর সমস্যা হয়না।
- রাতে কাঁঠাল না খাওয়াঃ কাঁঠাল যেহেতু হজম হতে একটু সময় বেশি নেয় তাই আমাদের উচিত রাতের বেলা কাঁঠাল এড়িয়ে চলা, কেননা রাতের বেলা আমাদের হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যাদের গ্যাসের সমস্যা আছে তারা রাতে কাঁঠাল খেলে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় পেট ফেঁপে থাকে ,গ্যাস বা বদহজমের সমস্যা হয় । আমার নিজেরই রাতের বেলা কাঁঠাল খেলে বুক জ্বালাপোড়া করে ।
- পরিমিতিবোধঃ যে কোন খাবারই অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো, কেননা অতিরিক্ত কোন কিছুই খাওয়াই ভালো না সেটা যত সুস্বাদু হোক কেন। বিশেষ করে কাঁঠাল একজন সুস্থ মানুষের দিনে ৪/৫ কোয়ার বেশি খাওয়া উচিত নয়।
কাঁঠাল খাওয়ার পর যেসব খাবার খাওয়া নিষেধ
কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলা কাঁঠাল খাওয়ার সাথে সাথে না খাওয়াই ভালো ,কেননা সে খাবার গুলো খেলে অনেকের শরীরে তীব্র রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ঘটে । নিচে এমন কিছু খাবারে তালিকায় দেওয়া হলো যা কাঁঠাল খাওয়ার সাথে সাথে সেই খাবারগুলো না খাওয়াই ভালো ।
- দুধঃ যাদের গ্যাসের সমস্যা ও চর্মরোগ আছে তাদের উচিত কাঁঠাল খাওয়ার পর পরই দুধ না খাওয়া। কেননা কাঁঠাল আর দুধ একসাথে খেলে গ্যাস এসিডিটি এবং এলার্জি ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় দুধ আর কাঁঠাল একসাথে খেলে ডায়রিয়া হয়ে যায়।তাই সাবধানে খাওয়া উচিত।
- কমল পানীয়ঃ কাঁঠালের সাথে কখনোই কমল পানীয় বা সফট ড্রিঙ্কস (সেভেন আপ, কোকাকোলা, আরসি, পেপসি, মোজো) খাবেন না , সফট ড্রিঙ্কস এ রয়েছে অতিরিক্ত চিনি আর কাঁঠালেরা আছে উচ্চমাত্রার শর্করা। অতিরিক্ত চিনি এবং উচ্চমাত্রার শর্করা দুইটা একসাথে মিলে প্রচন্ড গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে।
- তেতো খাবারঃ কাঁঠাল খাওয়ার পর পরই তেতো জাতীয় কোন সবজি যেমন ধরেন করলা দিয়ে ভাত খাবেন না । কাঁঠাল খাওয়ার পর তেতো খাবার খেলে বমি বমি ভাব হয়ে পেট মোচড় দিয়ে পেট ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- চাঃ আর অবশ্যই অবশ্যই কাঁঠাল খাওয়ার পর পরই কখনোই চা পান করবেন না, কেননা চা পান করলে হজমে বিঘ্নতা ঘটে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তীব্র থেকে তীব্র হতে পারে।
অতিরিক্ত কাঁঠাল খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
কাঁঠাল উপকারী ফল হলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়, অতিরিক্ত কাঁঠাল খেলে বিভিন্ন রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কাঁঠাল খেলে কি কি সমস্যা হতে পারে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।
পেটের সমস্যাঃ কাঁঠালে উচ্চমাত্রায় ফাইবার রয়েছে,তাই অতিরিক্ত কাঁঠাল খেলে অনেকের ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা বা পেট ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে, ব্যাক্তিগতভাবে আমি নিজেই বর্তমানে পরিমাণে একটু বেশি কাঁঠাল খেলে আমার প্রচন্ড পেট ব্যথা হয়। তাই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যাদের গ্যাসের সমস্যা আছে তাদের একটু কম কাঁঠাল খাওয়াই ভালো ।
এলার্জিঃ আবার অনেকের এলার্জি সমস্যা আছে, কাঁঠাল খাওয়ার পর যাদের চুলকানি বা ত্বক লাল হয়ে যায়, ত্বকে লাল রেসের মতন বাহির হয় এবং ত্বক চুলকায় তাদেরকে কাঁঠাল খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
কিডনি রোগীদের জন্য সতর্কতাঃ যাদের কিডনির সমস্যা আছে, যাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তারা অবশ্যই অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কাঁঠাল খাবেন , কেননা কাঁঠাল এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম।
ডায়াবেটিস রোগীরা কি কাঁঠাল খেতে পারবে ?
বেশিরভাগ সময় দেখা যায় ডায়াবেটিস রোগীদের মনে একটা ভয় থাকে যে পাকা কাঁঠাল তো অনেক মিষ্টি হয় ,তাহলে কি পাঁকা কাঁঠাল খেতে পারবো? কেননা পাকা কাঁঠাল ব্যাস মিষ্টি হওয়া এতে সুক্রোজ ও ফ্রোক্টোজের পরিমাণ বেশি থাকে ।
বিশেষজ্ঞদের মতামতঃ হ্যাঁ অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীরা পাকা কাঁঠাল খেতে পারবেন। তবে পরিমাণে কম, দিনে ২/৩ কোয়ার বেশি না খাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিস রোগীরা কাঁচা কাঁঠাল নির্দ্বিধায় খেতে পারবেন, লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে অথবা তরকারি রান্না করে। কাঁচা কাঁঠাল রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ডায়েট করা অবস্থায় কাঁঠালের ভূমিকা
আপনি যদি ডায়েট কন্ট্রোলে থাকেন তবে অবশ্যই পাকা কাঁঠাল খাওয়ার ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে খাবেন। পাকা কাঁঠালের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেট, তাই অতিরিক্ত পাকা কাঁঠাল খেলে ওজন বাড়তে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইলে আপনি পাকা কাঠাল না খেয়ে কাঁচা কাঁঠাল অথবা কাঁঠালের বিচি খেতে পারেন। কাঁঠালের বিচিতে ফাইবার থাকায় দীর্ঘসময় পেট ভরিয়ে রাখে যা আপনাকে অসময়ে খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায় ।
কাঁঠাল নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১ গর্ভবতী মায়েরা কি কাঁঠাল খেতে পারবে?
উত্তর শিশুর বিকাশের জন্য পাকা কাঠাল খুবই উপকার , পাকা কাঁঠালে থাকা ফলিক এসিড ও ভিটামিন গর্ভের শিশুর বিকাশের সাহায্য করে, তাই গর্ভবতী মায়েরা কাঁঠাল খেতে পারে কিন্তু অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো ।
প্রশ্ন ২ কাঁঠাল খেলে কি মেদ বা ভুড়ি কমে ?
উত্তর প্রতিদিন যদি অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁঠাল খাওয়া হয় তাহলে ভিতরে অতিরিক্ত ক্যালরি এই মেদ হিসেবে জমতে পারে। অতিরিক্ত কাঁঠাল খেলে শরীর ভারী হয় ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে অলসতা বেড়ে যায়, তবে পরিমিত কাঁঠাল খেলে ভুঁড়ি সম্ভাবনা নেই।
প্রশ্ন ৩ খালি পেটে কাঁঠাল খাওয়া কি ঠিক?
কাঁঠাল অবশ্যই অবশ্যই খালি পেটে খাওয়া ঠিক না, কাঁঠালে অতিরিক্ত ফাইবার এবং এসিড থাকায় যা খালি পেটে খেলে গ্যাস বা বুক জ্বালাপোড়ার সৃষ্টির করতে পারে,সকালে হালকা কিছু খাওয়ার পর কাঁঠাল খাওয়া ভালো।
উপসংহার
গ্রীষ্মকালের সুস্বাদু এই মিষ্টি ফলটি দামে কম হওয়ায় প্রায় সব বাঙালির ঘরেই পাওয়া যাবে, গ্রামে প্রায় সবার একটি হলো কাঁঠাল গাছ থাকে , তাই সঠিক নিয়ম মেনে এবং পরিমিতি পরিমাণে কাঁঠাল খেলে একটি আপনার শরীরের জন্য ওষুধের মত কাজ করবে । আপনার যদি পূর্ববর্তী কোন জটিল রোগ থাকে তাহলে অবশ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কাঁঠাল খাওয়ার চেষ্টা করবেন । এই গরমে সুস্থ থাকুন ,বেশি বেশি পানি পান করুন এবং পরিমিত কাঁঠাল খেয়ে জাদুকরী পুষ্টিগুণ উপভোগ করুন । হ্যালো
.webp)

bosontobouryনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url