বাংলাদেশের বাহারি জাতের আম ও তাদের পুষ্টিগুণ
বাংলাদেশ ফলের দেশ, এদেশে রয়েছে নানান রকম ফল।এতসব ফলের ভিড়ে গ্রীষ্মের তপ্ত রোধের মাঝে যে ফলটি আমাদের সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দেয় তাহলে ফলের রাজা আম। বৈশাখ মাসের নানান রকম কাঁচা আমের আচার, আমসত্ত্ব বানানো শেষ হতে না হতেই জৈষ্ঠ্য মাসের শুরুতেই পাকা আমের মউ মউ গন্ধে চারিদিক ভারী হয়ে ওঠে।
আর আমাদের দেশে রয়েছে শত শত বাহারি প্রজাতির আম, একেক প্রজাতির আম একেক রকম লোভনীয় স্বাদ ও মিষ্টি গন্ধ। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো বাংলাদেশের সেরা ১০ টি জাতের আম এবং তাদের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।
সূচিপত্রঃ বাহারি জাতের আম ও তাদের পুষ্টিগুনাগুণ
- বাংলাদেশ হচ্ছে আমের রাজ্য
- আমের সাধারণ পুষ্টি উপাদান ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
- কাচা আম খাওয়ার পুষ্টিগুণ নিয়ম ও সতর্কতা
- স্বাদের রাজা ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর আম
- সুগন্ধ আর সেরা স্বাদের অনন্য মিশ্রণ ল্যাংড়া আম
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতের আম হচ্ছে ফজলি
- মিষ্টি স্বাদের জাদুকর আম্রপালি
- হাড়িভাঙ্গা আম, উত্তরবঙ্গের গৌরব
- পুষ্টিকর ও অল্পদামের আম, লক্ষণভোগ
- আমের মৌসুমের শেষ উপহার আশ্বিনা আম।
- হাইব্রিড জাতের আম গৌড়মতি ও বারি আম-৪
- ডায়াবেটিস রোগী ওজন নিয়ন্ত্রণে আম খাওয়ার নিয়ম ও শেষ কথা ।
বাংলাদেশ হচ্ছে আমের রাজ্য
বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম একটি দেশ। বাংলাদেশের যত ফল আছে তার মধ্যে
ফলের রাজা হচ্ছে আম আর জাতীয় গাছ আম গাছ হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত। এছাড়া
ঐতিহাসিকভাবেও বাংলাদেশে আমের প্রাচীন উৎপত্তিস্থল। এই ফলের সাথে বাংলাদেশের
ইতিহাস অর্থনীতি ও সংস্কৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, বিশ্বের প্রধান আম উৎপাদনকারী
দেশ গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম একটি দেশ । বাংলাদেশের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ,
নওগাঁ ও নাটোর জেলা কে আমের রাজধানী বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি
এই পার্বত্য অঞ্চল এবং দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলায় আমের
বাণিজ্যিকভাবে বেশ ভালো উৎপাদন হয়। আমাদের দেশের বাহারি জাতের প্রায় শতাধিক
জাতের আম পাওয়া যায়। এই বাহারি জাতের সু-মিষ্টি আম কেবল আমাদের জিহ্বার
তৃপ্তি আনে না বরং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভূমিকা রাখে।
আমের সাধারণ পুষ্টি উপাদান ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
এক এক জাতের আমের এক এক রকম স্বাদ হয়ে থাকে, তাই যেকোনো একটি নির্দিষ্ট জাতের
আমের সম্পর্কে জানার আগে জেনে নেওয়া যাক আম কেন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য এত
উপকারী। আম পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি জনপ্রিয় ফল কেননা এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম, খনিজ লবণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
থাকে।
আমের প্রধান পুষ্টি উপাদান সমূহ।
ভিটামিন সি, আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় তার
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং ত্বক ভালো রাখতে সচেষ্ট ভূমিকা
রাখে।
ভিটামিন এ, আমি থাকা ভিটামিন এ ও বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টি শক্তি উন্নত করে এবং
রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম,উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম
সাহায্য করে এবং হার্ট ভালো রাখে ।
ফাইবার, যাদের হজম জনিত সমস্যা আছে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য আম খুবই ভালো
একটি ফল। আমে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে
সাহায্য করে।
কপার ও ভিটামিন বি ৯, গর্ভাবস্থায় কাঁচা পাকা আম দুটোই গর্ভের ব্রণের সঠিক
বৃদ্ধি ও কোষ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ভিটামিন বি ৯
শিশুর মস্তিষ্কও মেরুদন্ড তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে,এর অভাবে শিশুর
মেরুদন্ডের মস্তিষ্কের জন্মগত ত্রুটি হতে পারে।
কাচা আম খাওয়ার পুষ্টিগুণ,নিয়ম ও সতর্কতা
পাকা আম খাওয়ার আগে অবশ্যই কাঁচা আম খাওয়ার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমাদের
ভালো জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। কেননা পুষ্টির বিজ্ঞানীদের মতে কাঁচা আমের থাকা পাকা
আমের চেয়ে কিছু কিছু পুষ্টি উপাদান বিশেষ করে ভিটামিন সি এবং অর্গানিক এসিডের
পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
ভিটামিন সি এর পাওয়ার হাউজ হচ্ছে কাঁচা আম। কাঁচা আমে থাকা ভিটামিন সি শরীরের
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ঠান্ডা কাশি এই এবং ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা
পেতে কাঁচা আম খাওয়া ভালো এছাড়াও দাঁত ও মারির জন্য কাঁচা আম বেশ উপকারী।
কাঁচা আমের থাকা অর্গানিক অ্যাসিড লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়, পিত্তরসের ক্ষরণ
নিয়ন্ত্রণ করে এবং অন্ত্রের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাঁচা আমের থাকা সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজের ভারসাম্য
বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তীব্র গরমে কাঁচা আমের আমপান্না বা আম রস খেলে
হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশ কমে যায় ।
যারা মোটা হওয়ার ভয়ে পাকা আম খেতে চায় না তারা অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেদ
কমানোর জন্য কাঁচা আম খেতে পারেন, কেননা কাঁচা আমে থাকা ক্যালরির ও সুগারের
পরিমাণ অনেক কম থাকে। এটি শরীরের মেটাবলিজম রেট বাড়ায় এবং দ্রুত ক্যালোরি
কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
যাদের গ্যাসের সমস্যা আছে বিশেষ করে বুক জ্বালাপোড়া করে তারা কাঁচা আম চিবিয়ে
খেতে পারেন। কেননা কাঁচা আম মুখের লালাগ্রন্থিকে সক্রিয় করে এবং পেটের অম্লতা ও
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমিয়ে আনতে অনেকটাই সাহায্য করে।
কাঁচা আম খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
কাঁচা আম স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও এটি ভুল নিয়মে খেলে পেটের গোলমাল
বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। কাঁচা আমের বোটাতে এক ধরনের সাদা
আঠালো কষ বের হয় তা যদি মুখে লাগে তখন মুখে এলার্জি হয়ে একধরনের ঘা হয়ে যেতে
পারে ,তাই কাঁচা আম পারার সময় সাবধানে পারতে হবে। এছাড়া কাঁচা আম একবারে
অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো । নিচে বিভিন্ন উপায়ে কাঁচা আম খাওয়ার পদ্ধতি দেওয়া
হল।
তীব্র গরমে কাঁচা আম পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে এতে পুদিনা পাতা, বিট লবণ, কাঁচামরিচ
ও সামান্য চিনি দিয়ে ব্লেন্ড করে আম পান্না বানিয়ে খাওয়া যায়, যা মুহূর্তে
শরীরের সমস্ত ক্লান্তি ভাব দূর করে এবং মুখের রুচি বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের দেশে সেই প্রাচীন যুগ থেকেই কাঁচা আমের ফালি করে লবন ,মরিচ ,কাসুন্দি
দিয়ে খাওয়ার প্রচলন আছে। অতিরিক্ত ঝাল দিয়ে বেশি লবণ দিয়ে খেলে পেটে
জ্বালাপোড়া ও উচ্চ রক্তচাপ বাড়তে পারে, তাই মসলার ব্যবহার সীমিত রেখে অল্প
পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
কাঁচা আমে উচ্চ মাত্রায় অ্যাসিড থাকে, তাই একদম খালি পেটে কাঁচা আম না খাওয়াই
ভালো। বিশেষ করে দুপুরের আগে কাঁচা আম খাওয়া ভালো। কেননা খালি পেটে কাঁচা আম
খেলে গ্যাস্টিকের ব্যথা বা আলস্যারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পরিমাণের
চেয়ে বেশি কাঁচা আম খেলে ডায়রিয়া, বদহজম এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। দিনে একটি
মাঝারি আকারের কাঁচা আম খাওয়াই যথেষ্ট।
কাঁচা আমের বিভিন্ন রকম টক মিষ্টি ঝাল আচার করে খাওয়া যায়। আমের মোরব্বা করে
খাওয়া যায়। কাঁচা আম দিয়ে আমসত্ত্ব বানিয়ে শুকিয়ে রেখে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে
খাওয়া যায়, পাকা আমেরও আমসত্ত্ব হয়।
এছাড়া কাঁচা আম দিয়ে টক ডাল, ছোট মাছের চচ্চড়ি ও আমের চাটনি রান্না করেও ভাতের
সাথে খাওয়া যায়।
স্বাদের রাজা খিরসাপাত বা হিমসাগর আম
বাংলাদেশের যতগুলো আম আছে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো খিরসাপাত বা হিমসাগর
আম। এই আম এতটাই সুমিষ্ট যে এজন্য একে অনেকেই হিমসাগর আম বলে ডাকে। আমার নিজেরও
ব্যক্তিগতভাবে হিমসাগর এক নম্বর পছন্দের তালিকা। হিমসাগর পাকা আম সাধারণত
মে মাসের শেষের দিকে বাজারে উঠে। এর ভিতরের অংশ এবং অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো হয়।
হিমসাগর আম পাকা অবস্থায় ভিতরে গারো কমলা কালারের লোভনীয় হয়ে থাকে। এছাড়া
হিমসাগর আম এটি বাংলাদেশের একটি জি আই পণ্য ।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
- হিমসাগর আমের শর্করা পরিমাণ বেশি থাকে যা শরীরে তাৎক্ষণিক এনার্জি যোগায়। যাদের শরীরে ওজন কম এবং দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি চান। তারা হিমসাগর আম খেতে পারেন কেননা হিমসাগর আহমেদ তাৎক্ষণিক শক্তি যোগায় এবং শরীর মোটা করতেও সাহায্য করে
- এতে উচ্চমাত্রায় বিটা ক্যারেটিন থাকে , যা লিভারে গিয়ে ভিটামিন এ রূপান্তরিত হয় এবং চোখের কর্নিয়া ভালো রাখে এবং চোখের সানি পড়া রোধ করে।
সুগন্ধ আর সেরা স্বাদের অনন্য মিশ্রণ ল্যাংড়া আম
হিমসাগর আম খাওয়া শেষ হতে না হতেই জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে আসে পাকা
ল্যাংড়া আম। এই আমের খোসা অত্যন্ত পাতলা এবং এর সুভাষ অত্যন্ত তীব্র ও
আকর্ষণীয়। এই আম পাকলে এর গায়ের রং পুরোপুরি হলুদ কালার হয় না, কিছুটা সবুজ
রঙের থাকে তবে এর ভিতর শ্বাস খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি।
পুষ্টিগুণ উপকারিতা
- ল্যাংরা আমের মাঝে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। এক কথায় ভিটামিন সি এর ভান্ডার হচ্ছে ল্যাংড়া আম। এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে এবং দাঁতের গোড়ার মাড়ি শক্ত করে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি রেডিক্যালসের বিরুদ্ধে লড়াই করে কোষের ক্ষয় রোধ করে, এর ফলে মানুষের জীবনে বার্ধক্য দেরিতে আসে ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতের আম হচ্ছে ফজলি
ফজলিয়ামের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এটি আকারে বিশাল এবং ওজনে ভারী। এক একটি ফজলি আম
আর ওজনে প্রায় ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফজলি আম জুন মাসের
শেষের দিকে বা জুলাইয়ের শুরুতে পাকতে শুরু করে, এর স্বাদ কিছুটা টক মিষ্টি
মিশ্রিত তবে ফজলি আম আধা পাকা অবস্থায় খেতে বেশি মজা লাগে।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
- ফজলি আমে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার বা আঁশ থাকে, ফাইবার অন্ত্রের কার্যকারিতা সচল রাখে এবং যাদের দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তাদের এই সমস্যা দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে।
- তীব্র গরমের শেষের দিকে ফজলি আম পেকে থাকে, এতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় গ্রীষ্মের ক্লান্তি ও ডিহাইড্রেশন দূর।
মিষ্টি স্বাদের জাদুকর আম্রপালি
আমরুপালি আম মূলত একটি হাইব্রিড আমের জাত। তবে আমরুপালি আম বাংলাদেশের অত্যন্ত
জনপ্রিয় একটি আম। বিশেষ করে আমার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দের দ্বিতীয় তালিকায় আছে
আমরুপালি আম। এর আকার সাধারণত মাঝারি হয় কিন্তু এর মিষ্টতা অন্য যেকোনো আমকে হার
মানাতে পারে। আমরুপালি আমের ভেতরের অংশ আঁশহীন এবং গারো কমলা রঙ্গে হয়ে থাকে।
এছাড়া আম্রপালি আমের মধ্যে একটি মাতাল মাতাল গন্ধ থাকে।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
- আম্রপালি আমের গারো কমলা রঙের শ্বাস প্রমাণ করে যে এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন অ্যাড রয়েছে যা মানুষের ফুসফুস ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে রাখে।
- ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই এর চমৎকার উৎস হওয়াতে আম্রপালি আম ত্বককে উজ্জ্বল করে রাখে এবং চুল পড়া কমাতে বেশ ভালো সাহায্য করে।
হাড়িভাঙ্গা আম, উত্তরবঙ্গের গৌরব
শুরুতে এই আমের নাম ছিল মালদিয়া, কিন্তু পরবর্তীতে এর নাম হয় হাড়িভাঙ্গা
আম।হাড়িভাঙ্গা আমের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর আগে রংপুরের
মিঠাপুকুর উপজেলার খোরাগাছ ইউনিয়নের তেকানি গ্রাম থেকে। রংপুরের এই বিখ্যাত
হাড়িভাঙ্গা আম ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের ২৮ তম জিআই পন্য হিসেবে
স্বীকৃতি পায়। এই হাড়িভাঙ্গা আম বর্তমানে রংপুর বিভাগের তথা উত্তরবঙ্গের
গৌরব উজ্জ্বল একটি নাম ।
হাড়িভাঙ্গা আম দেখতে গোলাকার, আঁশহীন , খোসা খুবই পাতলা , খেতে প্রচুর মিষ্টি ও
রসালো এবং এর বিশেসত্ব হলো আমের তুলনায় আটি খুবই ছোট। এই আম সাধারণত জুন মাসের
শেষের দিকে পাকা লাগে।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
- হাড়িভাঙ্গা আমে ক্ষতিকর কোলেস্টরেল মাত্রা থাকে না অন্যান্য আমের মত এবং এটি খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। ফাইবার ও ফটোকেমিক্যাল হৃদসাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে
- এতে থাকা এনজাইমগুলো প্রোটিন সহজে ভেঙে ফেলতে পারে যা পরোক্ষভাবে হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে থাকে।
পুষ্টিকর ও অল্পদামের আম, লক্ষণভোগ
লক্ষণ ভোগ আম দেখতে অনেকটা ল্যাংড়া ও হিমসাগর আমের মত হলেও মিষ্টি কিছুটা কম,
তবে এর পাকা আমের কালার উজ্জ্বল সোনালী রঙের মত চমৎকার এবং প্রচন্ড সুঘ্রান
রয়েছে। এই আম অন্যান্য আমের তুলনায় অনেকটা কম দামে পাওয়া যায়, লক্ষণভোগ আম
বিদেশে প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে, তাই প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করা
হয়।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
- যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, কিন্তু খেতে ভালোবাসেন এবং যাদের ডাইবেটিস রয়েছে তারা লক্ষণভোগ আম খেতে পারেন। কেননা এই আম অন্যান্য আমের তুলনায় কম মিষ্টি স্বাদের আম, এই আম ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তের সুগারের মাত্রা কম রাখে।
- এতে প্রচুর পরিমাণ আইরন রয়েছে যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে এবং ফলিক এসিডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
আমের মৌসুমের শেষ উপহার আশ্বিনা আম।
আশ্বিনা আম বাংলাদেশের অন্যতম একটি জনপ্রিয় আম। এটি ২০০৪ সালের চাঁপাইনবাবগঞ্জের
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।আশ্বিনা আম সাধারণত বাংলা
আশ্বিন মাসে পাকে। অন্যান্য আমের মৌসুম যখন শেষ হয়ে যায় বাজারে তখন এই আমের
চাহিদা প্রচুর থাকে।আশ্বিনা আমকে বছরের শেষ মৌসুমের আম হিসাবে ধরা হয়।
আশ্বিনা আম আকারে বেশ বড় হয় এবং ওজনে প্রায় ৬০০/১০০০গ্রামের মতো হয়ে থাকে, এর
আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি পাকলে সবুজ রং ধারণ করেই থাকে।আশ্বিনা আমটি আঁশ যুক্ত
এবং এটি ব্যস রসালো হয়। কাঁচা অবস্থায় এটি প্রচুর টক হলেও পাকার পর হালকা টক
মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে এবং এই আমের স্বাদ কিছুটা আনারসের মত লাগে।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
দেরিতে পাকার কারণে এই আমে দীর্ঘ সময় ধরে পুষ্টি উপাদান সঞ্চিত হয় এর ভিটামিন
বি কমপ্লেক্স শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে সচল ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে এবং রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
আশ্বিনা আমে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে, ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড় শক্ত
রাখতে সাহায্য করে।
হাইব্রিড জাতের আম গৌড়মতি ও বারি আম-৪
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের হাইব্রিড
আম, তাই এই আমের নাম রাখা হয়েছে বাড়ি আম-৪ , যা গৌরমতি আম নামে পরিচিত। এটি
একটি নাবিজাতের আম, যা আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পাওয়া
যায়। এই আম দেখতে হিমসাগর আমের মতো গোলাকার হলেও আয়তনে আরো বড় হয় এবং
মিষ্টির পরিমাণ বেশি থাকে। এই আম কাঁচামিঠা আমের মত মিষ্টি লাগে এবং কিছুটা পাকা
পেয়ারার মত লাগে।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
- আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ ও উদ্বোধনের ফলে এই আমগুলোতে পুষ্টির ক্ষয় কম হয় এগুলো এন্ট্রি অক্সিডেন্টে ভরপুর এবং লিভারকে বিষমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগী ওজন নিয়ন্ত্রণে আম খাওয়ার নিয়ম ও শেষ কথা।
অনেকে মনে করেন ডায়াবেটিস রোগীরা আম খেতে পারবেনা কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীরা
অবশ্যই আম খেতে পারবেন, তবে সীমিত পরিমাণে । চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প
পরিমাণে খেতে হবে। প্রতিদিন মাঝারি সাইজের একটি আম বা বড় আমের অর্ধেক। আম
খাওয়ার আগে ভাত বা শর্করা জাতীয় খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে ব্যালেন্স করতে
হবে। ডায়াবেটিস রোগীরা মূল খাবারের সাথে আম না খেয়ে বিকালের নাস্তা হিসেবে
অল্প আম পরিমাণে খেতে পারবে।
শেষ কথা
বাংলাদেশের বাহারি জাতের আম কেবল আমাদের সংস্কৃতির সাথে জড়িত না, এটি
আমাদের প্রকৃতির আশীর্বাদ ও মহাঔষধ। তবে সব সময় মনে রাখবেন কৃত্রিম উপায়ে
বা কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কেননা এটি স্বাস্থ্যের
জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, সবসময় চেষ্টা করবেন কোন বিশ্বস্ত উৎস বা সরাসরি বাগান
থেকে আম সংগ্রহ করে খাওয়ার । চলতি মৌসুমে আপনি আপনার পছন্দের আম টি বেছে নিন এবং
পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করুন।


bosontobouryনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url