টিনএজ বা কিশোর বয়সি বাচ্চাদের থেকে মোবাইল দূরে রাখার উপায়

বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাবা মা এর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কিশোর বয়সী সন্তানদের হাত থেকে স্মার্টফোনে দূরে রাখা । কৈশোর বয়সে মস্তিষ্কের দ্রুত বিকাশ ঘটে ,যার ফলে সন্তানরা এই বয়সে অজানাকে জানার আগ্রহ দেখায়।


কিশোর-বয়সি-বাচ্চাদের-থেকে-মোবাইল

 এর কারণে সন্তানরা মোবাইলের প্রতি অনেক আগ্রহ দেখায়।যার দরুন নানান রকম ভুল করে বসে। আজকে আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করব   কিশোর বয়সি   সন্তানদেরকে মোবাইল থেকে দূরে রাখার বিভিন্ন উপায়।

সূচিপত্রঃ সন্তানকে মোবাইল থেকে দূরে রাখার বিভিন্ন উপায় 

কৈশোরে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব 

যেকোনো মানুষেরই অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন রকম সমস্যা হয়ে থাকে। যেমন শারীরিক ,মানসিক ও সামাজিক বিভিন্ন রকম মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে । আর কিশোর বয়সটা হচ্ছে আবেগের বয়স , কৌতুহলের বয়স, এই বয়সে সাধারণত সন্তানেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন রকম অনলাইন গেমস, সোস্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য প্লাটফর্মের দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে পরে। এইসব কারণে বাবা-মায়ের সাথে দূরত্ব করে,   মোবাইলে বিভিন্ন রকম ভিডিও দেখে নিজে নিজে  উল্টাপাল্টা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

এছাড়াও কিশোর বয়সটা হচ্ছে একটা সন্তানের ক্যারিয়ার মজবুত করার ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি । এই বয়সে যদি ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় মনোযোগ না দিয়ে  অতিরিক্ত মোবাইলে মনোযোগ দিয়ে থাকে তাহলে তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত  ঘটে থাকে। এ বয়সে অতিরিক্ত মোবাইলে নেশার কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। যেমন অনেক সময় দেখা যায় তার সমবয়সি কেও খুব স্মার্টলি নিজেকে প্রদর্শন করে , তখন সে নিজেকে জাজ করে।আমার সমবয়সী মানুষটা এত সুন্দর ,স্মার্ট  আমি কেন তাদের মত না ? এই সমস্ত হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে । তারা সব সময় অন্যকে দেখে তুলনা করে নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে। যার কারনে সে বাস্তব জীবনে মানুষের সাথে মেলামেশা অনেকটা কমিয়ে  দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগ সম্পর্ক থেকে দূরে থাকতে যে চেষ্টা করে।

কিশোর বয়সে মোবাইলে আসক্তির কারণে অনেক সময় দেখা যায় তারা গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে, এর ফলে  ঘুমের একটা সমস্যা হয় । রাতে মোবাইলের নীল আলো মেলোটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, ফলে অনিদ্রার বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। অনিদ্রার কারণে তখন দিনের বেলা তাদের শরীর অনেকটা দুর্বল থাকে, তারা কোন কিছুতে মনোযোগ দিতে বা ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারে না।দীর্ঘক্ষণ মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের উপরেও অনেকটা চাপ পড়ে , এর কারনে অনেকের দৃষ্টিশক্তি কমে যায় । তারপরে হচ্ছে ঘাড় ব্যথা হয় ও মাথাব্যথা হয়ে থাকে। এছাড়াও সারাদিন বসে মোবাইল টিপার কারণে শারীরিক পরিশ্রমটা অনেক কম হয় , যার কারণে ওজন বৃদ্ধি পায় এবং স্থূলতা বা  মোটা হয়ে যায়।

আবার অনেক সময় দেখা যায় তারা ছোট ছোট রিলস বা শর্টস ভিডিও দেখার অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন হয়তো তারা বড় কোন কিছু মনোযোগ দিয়ে  দেখতে চায় না  বা বড় কোনো লেখা ধৈর্য সহকারে পড়তে চায়না , যার প্রভাব সরাসরি পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না বলে সামান্য কিছুতেই কিশোর বয়সে অতিরিক্ত বিরক্ত হয়ে বোধ করে এবং রেগে যায়।

সন্তানদের সামনে নিজেদের মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনা

অনেক বাবা মা আছে সন্তানদের সামনে তারা সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে। একটু অবসর সময় পেলেই  মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে ।সন্তানদের সময় কম দেয় , এর ফলে সন্তানরা কি করে তারা নিজেরাও বাবা-মা কে দেখে মোবাইলের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় ।  বাবা-মা যদি সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং সন্তানকে বলে তোমরা মোবাইল ব্যবহার করোনা , মোবাইল তোমাদের জন্য ক্ষতি , তখন কিন্তু সন্তানরা এই কথাটা একটুও মানবে না। 

কিশোর-বয়সি-বাচ্চাদের-থেকে-মোবাইল


বাবা-মার উচিত সন্তানদের সামনে মোবাইল কম ব্যবহার করা ,  সন্তান যখন বাসায় স্কুল কলেজ থেকে ফিরবে তখন চেষ্টা করবেন মোবাইলটা দূরে রেখে দিয়ে তাদের সাথে গল্প করতে । সারাদিন তারা স্কুলে বা কলেজে কি করেছে সে বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা । আজকে স্কুলে বন্ধুদের সাথে কি কি করেছে, আজকে কয়টা ক্লাস হয়েছে এই সমস্ত আলাপ আলোচনা করার চেষ্টা করা উচিত। 

অনেক সময় দেখা যায় বাবা-মা খেতে বসে ডাইনিং টেবিলের সন্তানদের সামনে  মোবাইল দেখে খাবার খেতে। এটা কখনোই করা উচিত নয় , খাওয়ার সময় সন্তানদের সাথে আলাপ আলোচনা করে মজা করে খাবার খাওয়া উচিত। অনেক সময় দেখা যায় সন্তান ভাত খেতে চায়না ,তখন তার হাতে মোবাইল দিয়ে দেওয়া হয় খাওয়ার জন্য । খাওয়ার সময় সন্তানের হাতে মোবাইল দিয়ে খেতে দেওয়া যাবেনা ।

সন্তানদেরকে মোবাইল থেকে দূরে রাখতে হলে বাবা-মার সব সময় চেষ্টা করা উচিত নিজে নিজে গল্পের বই পড়া এবং বই কিনে দেওয়া । তারপর হচ্ছে বাসায় ছোট্ট বাগান করা ,সেই বাগানে সন্তানকে নিয়ে    সময় দেওয়া এবংপরিবারের সাথে বাচ্চাকে নিয়ে আড্ডা দেওয়া ও এই সমস্ত বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা। 

 বাড়িতে স্পষ্ট-স্ক্রিন টাইম নিয়ম ও ডিজিটাল ডেটোক্স টাইম জোন তৈরি করা

বর্তমান  ডিজিটাল যুগে চাইলেই বাচ্চাদের  মোবাইল থেকে দূরে রাখা যায় না। কিছুটা যুগের সাথে তাল মিলিয়েও চলতে হয় ।  আপনি একেবারেই সোশ্যাল মিডিয়া বা আধুনিক জগত থেকে সন্তানকে দূরে রাখবেন এটা কখনোই সম্ভব না। 

আপনি  আপনার সন্তানের  হাতে মোবাইল দিতে চান না ,তার হাতে মোবাইল দেখলেই তাকে বকাঝকা করতে থাকেন ? এটা কখনোই করবেন না । এর জন্য আপনাকে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত , ধরুন আপনার টিন এজ  সন্তানকে আপনি বললেন তুমি আজকে পড়াশোনা বা স্কুলের কাজ শেষ করে সর্বোচ্চ ১-২ ঘণ্টা সময় নিয়ে তুমি মোবাইল ব্যবহার করতে পারো। কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে,  আপনার সন্তান মোবাইলে কোন বিষয়ে  অতিরিক্ত ঘাটাঘাটি করছে, এ বিষয়টা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।

বাবা-মা যদি সন্তানদের সামনে মোবাইল ব্যবহারের একটা নিয়ম-নীতি মেনে চলে , সেরকম সন্তানরা সেভাবে  সে নিয়মে চলতে বাধ্য । আপনি সন্তানকে বলতে পারেন ঠিক আছে তুমি মোবাইল ব্যবহার করো কিন্তু খাবার ঘর এবং এবং ঘুমানোর সময় তুমি মোবাইল থেকে দূরে থাকবে ।

আর সব সময় চেষ্টা করবেন আপনার সন্তানের হাতে রাত ১০ টার পর এবং সকালে ঘুম থেকে উঠার প্রথম এক ঘন্টা সে যেন কিছুতে মোবাইল স্পর্শ করতে না পারে , সব সময় চেষ্টা করবেন এরকম নিয়ম চালু রাখার জন্য ।

বাবা-মার সাথে ইতিবাচক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে  তোলা

টিনএজ  বা বয়সন্ধিকাল এ  বয়সটা একটি মারাত্মক সময় , এ সময় সন্তানকে খুবই ঠান্ডা ভাবে হ্যান্ডেল করতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য কলহের কারণে এর ইফেক্ট সন্তানদের উপরে পরে, তখন কি করে সন্তানেরা  ঘরের এই বিষাদময় পরিবেশ থেকে বাঁচতে নিজেকে আড়াল বা অন্য একটা জগতে আশ্রয় এর জন্য তারা মোবাইলটাকেই বেস্ট অপশন মনে করে। নিজেকে একাকীত্ব থেকে বাচানোর জন্য মনে করে এটাই বেস্ট অপশন।

স্বামী-স্ত্রীর সারাদিন ঝগড়া করেন কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখবেন এটা যেন দীর্ঘমেয়াদী না হয় , সন্তানদের মনে যেন কখনো এর ইফেক্ট না পরে। অনেক সময়  দেখা যায়  স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করে তারা সন্তানদের কথা ভুলে যায় ,সন্তান কোথায় যাচ্ছে , কি করছে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখেনা ,এটা অবশ্যই করা যাবেনা।

সব সময় চেষ্টা করবেন আপনার সন্তান কি বলছে,  সেই বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য । তার বিষয়টাকে ঠান্ডা মাথায় শুনুন এর জন্য কোন বিচার-বিশ্লেষণ করবেন না । সে কি বলছে সেই কথাটা আগে মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করবেন। 

সন্তানের পছন্দ-অপছন্দের মূল্য দিতে শিখুন ,তাই বলে এমন নয় যে তার যেকোনো কাজ পছন্দ করে সেগুলো আপনি সায় দিবেন । তাকে চেষ্টা করবেন সুন্দরভাবে বুঝাতে যে এই জিনিসটা তোমার জন্য ভাল এই জিনিসটা তোমার জন্য খারাপ । কোনটা ভালো বন্ধু, খারাপ বন্ধু এইসব বিষয়গুলো তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন , তার সাথে সারাদিন বিভিন্ন  ভালো-মন্দ ঘটনা ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো আলোচনা করার চেষ্টা করবেন।

অনেক সময় সন্তান খুব জোরাজুরি করে মোবাইলের জন্য তখন সন্তানকে মারধর করবে না , চেষ্টা করবেন ঠান্ডা মাথায় বুঝানোর জন্য , তাকে বলবেন যে এই বিষয়টা তোমার জন্য ভালো না । এখন তোমার পড়ালেখার সময় , তোমাকে মোবাইল দিচ্ছিনা তোমার ভালোর জন্যই ,  তোমার ভবিষ্যতের জন্য মোবাইল এই মুহুর্তে জরুরী না, তুমি তোমার পড়ালেখায় মনোযোগ দাও  । একসময় তোমার নিজের মোবাইল হবে তখন তুমি মোবাইল নিও।

মাঠের খেলা ও শারীরিক কর্মকান্ডে উৎসাহিত  করা

বর্তমান যুগে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যে ছেলেমেয়েরা সারাক্ষণ বাসায় বন্দি থাকে , তারা শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলা করার খুব একটা সময় পায়না বা শহরে বাসায় বাচ্চারা খেলার মাঠ পায় না। সন্তানকে দৈনিক শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলা করালে মস্তিস্কের  ডোপামিন ও এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে যা  মোবাইলের আসক্তি কমাতে যাদুকরি ভূমিকা রাখে। 

আপনার সন্তানকে মোবাইল থেকে দূরে রাখতে হলে আপনি চেষ্টা করবেন বিকেলবেলা সন্তানকে ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন বা সাঁতার কাটার জন্য সুযোগ করে দেওয়ার।  যদি সময় হয় বাসা থেকে বাহির হয়ে মোবাইল থেকে দূরে নিয়ে যান, একটু খোলা জায়গায় নিয়ে প্রয়োজন হলে আপনি সন্তানের সাথে গিয়ে ফুটবল , ক্রিকেট খেলতে পারেন। 

এছাড়া বিভিন্ন খেলাধুলার ক্লাব বা সাইকেলিং গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত করে দিন,  যাতে তাদের সাথে থেকে সে এই শারীরিক এক্টিভিটিস গুলোর সাথে যুক্ত থাকতে পারে । আপনি জোর করে কোন খেলায় তাকে ঝুঁকে দিবেন না, তার কাছ থেকে শুনবেন যে সে কোন খেলাটা বেশি পছন্দ করে? তার পছন্দের খেলার সাথে চেষ্টা করবেন তাকে যুক্ত করে রাখার জন্য। 

আরো পড়ুনঃ

আপনার বাচ্চা যদি বিকেলবেলা খেলাধুলা করে শারীরিকভাবে ক্লান্ত থাকে এবং রাতের বেলা স্বাভাবিক ঘুম নিশ্চিত হয় । এর ফলে  রাতের বেলা মোবাইলের ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ অনেকটাই কমে যাবে। আর সবসময় চেষ্টা করবেন এইসব খেলাতে উৎসাহিত করতে।

নতুন নতুন সখ ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখা   

বাচ্চার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নিলেন, সারাদিন বাচ্চা বাসায় বসে আছে কি করবে বুঝতে পারছেনা, এই অবস্থায়  তার মাঝে একটা শূন্যতা তৈরি হবে, তখন আপনার প্রথম ও প্রধান কাজ হল এই শূন্যতা টুকু দূর করা।

এর জন্য আপনি সন্তানকে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারেন , বিভিন্ন রঙ কিনে দিতে পারেন, নানান রকম ছবি একে দিয়ে তার সাথে আঁকাআঁকি করতে পারেন এবং সে যদি গিটার বা যেকোন বাদ্যযন্ত্র শিখতে আগ্রহী হয় সে বিষয়ে তাকে উৎসাহিত করতে পারেন। প্রয়োজনে তাকে সেগুলো কিনে  দিতে পারেন। কিংবা  কোডিং বা নতুন কোন ভাষা শেখার বিভিন্ন রকম কোর্স আছে এইসব কোর্সে ভর্তি করিয়ে দিতে পারেন ।

সন্তানকে আরেকটা বিষয় খুব আগ্রহ করে তুলতে পারেন, সেটা হচ্ছে বিভিন্ন রকম বই পড়া, আপনি নিজেও বই পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি করুন এবং সন্তানের হাতেও নতুন নতুন গল্পের বই, সিরিজ , গোয়েন্দা কাহিনী এ সমস্ত বই সন্তানের হ হাতে তুলে দিতে পারেন । তার পছন্দ অনুযায়ী এই বিভিন্ন রকম বই উপহার দিতে পারেন।

এছাড়াও বিভিন্ন রকম ইনডোর গেমস যেগুলো ঘরে বসে খেলা যায় যেমন ক্রামবোর্ড,  দাবা  ,লুডু, পাজল মেলানো এই সমস্ত খেলার অপশন গুলো বাসায় তৈরি করতে পারেন। 

পারিবারিক সময় কাটানো ও ভ্রমণের পরিকল্পনা করা

টিনএজ বয়সে সন্তানের পড়ালেখার ভালো করতে হলে  মোবাইল থেকে দূরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ , এর জন্য আপনাকে পারিবারিক বন্ধনটা মজবুত রাখতে হবে । পারিবারিক বন্ধন মজবুত হলে মোবাইলের প্রতি সন্তানের নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে যায়। 

পারিবারিক বন্ধন মজবুত করতে হলে আপনি  সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবাই মিলে সন্তানদেরকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যান । সন্তানদেরকে স্পেশাল ফিল করানোর জন্য তাদের পছন্দের জায়গা নিয়ে যেতে পারেন , তারপর বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে যেতে পারেন , আবার আত্মীয়-স্বজনকে ছুটির দিনে বাসায় ইনভাইট করতে পারেন । তাদের সাথে আড্ডা দিয়ে , গল্প , গুজব করে যেন সময় পার করতে পারে এরকম একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। 

এছাড়াও বিভিন্ন আইটেমের মজাদার  রান্না করে খাওয়াতে পারেন, তাদের পছন্দসই বিভিন্ন আইটেম রান্না করতে পারেন , সন্তানকে নিয়ে সাথে এসব রান্নায় অংশগ্রহণ করতে পারেন , তাকে হেল্প করতে বলতে পারেন এবং সে যেন দায়িত্ব নিতে পারে তাকে  শিখানোর জন্য ঘরের কাজে আগ্রহী করতে পারেন ।

তারপর রাতে সবাই মিলে একসাথে বিভিন্ন রকম গল্প করতে পারেন । পারিবারিকের বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করতে পারেন । তারা যেসব বিষয়ে মজা পায় , যেরকম গল্প করে মজা পায় সেইরকম টাইপের গল্প ও যেসব খেলা পছন্দ করে এরকম খেলাধুলা একসাথে পরিবারের সবাই বাবা-মা ভাই বোন মিলে এগুলা আয়োজন করতে পারেন।

পড়াশোনা ও ঘুমের স্থানে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ রাখা 

পড়াশোনা ও ঘুমের সময় মোবাইল সচরাচর সাথে রাখবেন না , কেননা শোয়ার সময় মনে হবে আচ্ছা আমি তো এখন ফ্রি আছি , শুয়ে শুয়ে একটু মোবাইল দেখি । একটুর জন্য মোবাইল হাতে নিলে  অনেকটা টাইম নষ্ট হয়ে যায় , এতে ঘুমের ব্যাঘাত করতে পারে এবং একসময় এটা রুটিনে হয়ে যায় ,তাই মোবাইল শোয়ার সময় না নেওয়াই ভালো।

বর্তমানে পড়ালেখার জন্য অনেকটাই ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে । চেষ্টা করবেন সচরাচর পড়াশোনার সময়  মোবাইল কাছে না রাখার । পড়ার টেবিলে মোবাইলের বদলে আপনি প্রয়োজনীয় বই, খাতা,নোট ব্যবহার করুন। পড়াশোনার কাজে ইন্টারনেটের প্রয়োজন হলে  তাহলে আপনি বাচ্চাকে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে দিন। 

ঘুমানোর সময় যেন মোবাইলের প্রতি আগ্রহ না বাড়ে সেজন্য সবসময় চেষ্টা করবেন আপনারা যে রুমে ঘুমাবেন মোবাইলটা অন্য রুমে রেখে বা চার্জিং পয়েন্টে রাখার অভ্যাস করার জন্য।

আরেকটা কাজ হচ্ছে যে অনেক সময়  ঘুম থেকে টাইমলি উঠার প্রয়োজন পরে তখন ঘড়িতে এলার্ম দেওয়ার দরকার হয়,তখন মোবাইলে এলার্ম দিয়ে থাকি । চেষ্টা করবেন মোবাইলে এলার্ম না দিয়ে  এলার্ম ঘড়ি কিনে রাখতে। 

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপস এবং টেকনোলজির সঠিক ব্যবহার 

বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তি ব্যবহার না করে থাকা যায় না কিন্তু এসব ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন রকম নিয়ম বা সাইট আছে সেগুলো বুঝে ব্যবহার করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায় । এজন্য একটা কাজ করা যায়, প্রযুক্তির ক্ষতিকারক দিক  রুখতে প্রযুক্তির সহায়তা নিতে পারেন। বিষয়টা এরকম যে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মত ঘটনা। এ কাজের জন্য প্যারেন্টসরা একটা কাজ করতে পারে , গুগল ফ্যামিলি লিংক বা এ জাতীয় বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করুন এবং যেগুলা ক্ষতিকারক ওয়েবসাইট আছে সেগুলা দেখে দেখে ব্লক করে দিতে পারে। 

আমি উপরে এক জায়গায় একটা কথা বলেছিলাম যে সন্তান কোন বিষয়ে মোবাইলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সে বিষয়টা খেয়াল রাখার জন্য। এ কাজটা করবেন কিন্তু অবশ্যই গোয়েন্দাগিরি করবেন না , তাকে বুঝাবেন যে সাইবার নিরাপত্তার যে একটা ঝুঁকি আছে এই সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত বুঝাবেন। ইন্টারনেটে কোন জিনিস গুলো ভালো, কোন জিনিসগুলো খারাপ। এই বিষয়টা তাকে গুরুত্বসহকারে বুঝানোর চেষ্টা করবেন। 

অনেক সময় দেখা যায় যে সন্তান একা একা স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। শহরের পথঘাটে একা একা চলা ফেরা করা শুরুতে টিনএজ বাচ্চাদের নিয়ে একটা ভয় কাজ করে, স্কুল থেকে একা বাড়ি ফেরার একটা ভয় থাকে ,তারপর বাড়ন্ত কিশোরীদের অনেক সময় একা পেলে ইভটিজিং করে। এই সমস্ত ভয় থেকে তাদেরকে ফোন দেওয়া একটা প্রয়োজন পরে, এক্ষেত্রে কি করতে পারেন স্মার্টফোনের বদলের প্রয়োজনে শুধু কথা বলার জন্য  বাটন মোবাইল এর বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে।

প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া

আপনি একজন পেরেন্টস হয়ে অনেক ভাবে আপনার সন্তানকে চেষ্টা করলেন তাকে মোবাইল থেকে দূরে রাখার কিন্তু দেখলেন কি সন্তান এসব ক্ষেত্রে সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। আপনার সাথে বাজে ব্যবহার করছে, তার আচরণ খুব উগ্র হয়ে আছে, পড়াশোনা খুবই অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং তার মোবাইলের প্রতি দিন দিন আসক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।দৈনিক জীবন বিষাক্ত হয়ে উঠছে, সেক্ষেত্রে এই বিষয়টাকে অবশ্যই আপনারা হালকা ভাবে কখনো নিবেন না। 

কিশোর-বয়সি-বাচ্চাদের-থেকে-মোবাইল


  1. এজন্য আপনি বিভিন্ন চাইল্ড সাইকোলজিস্ট বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শরণাপন্ন হতে পারেন ।
  2. প্রফেশনাল বিভিন্ন কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে সন্তানের ভিতরের হতাশা বা আসক্তির আসল কারণ কি তা চিহ্নিত করে সঠিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করুন ।

উপসংহার 

বর্তমান জেনারেশনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সন্তানকে অবশ্যই মোবাইল দিতে হবে । কেননা আপনি চাইলেই মোবাইল থেকে আপনার সন্তানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে পারবেন না।আর এই কাজ করা অবশ্যই বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। দেখবেন যে সবার হাতে ইন্টারনেট মোবাইল আছে কিন্তু আপনার সন্তানের হাতে একা মোবাইল নেই। এই বিষয়টি আপনার সন্তান মানতে পারবে না । এছাড়া বর্তমান ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল স্বাক্ষরতা ও অনেকটা জরুরী। বাবা মার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আসক্তি মুক্ত ভারসাম্যপূর্ণ মোবাইল ব্যবহার নিশ্চিত করা । ধৈর্য ,ভালবাসা এবং সঠিক  দিকনির্দেশনায় একটি কিশোরকে মোবাইলের কাল্পনিক জগত থেকে বাহির করে তাকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

bosontobouryনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Tania Akter
Tania Akter
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অর্ডিনারি আইটির শিক্ষার্থী। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ২ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।