বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের কচু চাষঃ অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও পুষ্টিগুন

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ । বাংলাদেশের আবহাওয়ার ও মাটি বিভিন্ন রকম ফসল ফলানোর জন্ একটি উপযুক্ত জায়গা । এদেশের সাধারণ মানুষের সাথে  ঐতিহ্যগতভাবে সবজি চাষ  মিশে আছে।  বাংলাদেশের মাটিতে যেকোনো ধরনের সবজি ফলালে ভালোভাবে সে ফসল উৎপাদন হয় ।

বাংলাদেশের-কৃষি-ক্ষেত্রে-কচু


এর মধ্যে কচু একটি অন্যতম সবজি। একসময় গ্রামীণ অঞ্চলের ঘরের আনাচে কানাচে অবহেলায় অনাদরে প্রচুর পরিমাণে কচু জন্মাতো,  সেখান থেকে কিছু কিছু পরিবারের চাহিদা মিটানোর জন্য খাওয়া হত কিন্তু কালের প্ররিক্রমায় কৃষিতে বিজ্ঞানের আধুনিকায়নের কারণে কচু এখন আর কোন সাধারণ অনাবা্দি সবজি নয়। এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে ফসলে পরিণত হয়েছে। সবজি হিসেবে কচুর পাতা,ডাটা,লতি,মুখী, কন্দ এবং ফুল  জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের কচু চাষ, অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও পুষ্টিগুণ নিয়ে বিস্তারিতভাবে। নিচে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।


সূচিপত্রঃ বাংলাদেশে কচু চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব 

বাংলাদেশের আবহাওয়া কচু চাষের জন্য কতটা উপযোগী

বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি কচুর জন্য অত্যন্ত উপযোগী জায়গা। বাংলাদেশ প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে এদেশের জলবায়ু আদ্র ও উষ্ণ,যা কচু চাষজের জন্য খুবই ভালো। এদেশের দো-আঁশ, এটেল দো-আঁশ এবং পলিযুক্ত মাটি কচু বৃদ্ধির জন্য এক আদর্শ জায়গা। কচু চাষের জন্য আর্দ্র ও উষ্ণ আবহাওয়া প্রয়োজন, হালকা ছায়া যুক্ত স্থানেও কচু ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে  ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কচু গাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও ক্নদ গঠনের জন্য দারুণ সহায়ক ।

কচু প্রচুর আর্দ্রতা ও পানি পছন্দ করে, বর্ষাকালে এদেশে  পর্যাপ্ত পরিমান বৃষ্টির কারণে বিশেষ করে পানি কচু  ও লতিরাজ কচুর ফলন  বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। এছাড়া মাঝারি নিচু জমি যেখানে বৃষ্টির পানি সহজে জমে থাকে সেখানে পানি কচু খুব ভালো জন্মে। বর্তমানে বাংলাদেশের সেচ ব্যবস্থা উন্নতি হওয়ার কারণে প্রায় প্রতিটি জেলায় কচু চাষ হয়ে থাকে বিশেষ করে যশোর, মেহেরপুর, রাজবাড়ি, ময়মনসিংহ এবং বগুড়া অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কচু চাষ হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধান প্রধান কচুর জাত

বাংলাদেশী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং স্থানীয় চাষীদের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের কচুর চাষ করা হচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশ প্রায় ১৬ রকমের কচু পাওয়া যায়।নিচে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান প্রধান কচুর জাত নিয়ে আলোচনা করা হলো।

মুখি কচুঃ মুখি কচু বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি কচুর জাত ,এই কচুর কন্দ বা গুড়ি খাওয়া হয়। মুখী কচু চাষের জন্য রৌদ্র উজ্জ্বল আবহাওয়া ও শুষ্ক দো-আঁশ মাটি বা বেলে দো-আঁশ মাটি খুব ভালো  পরিবেশ। মুখি কচু রোপনের প্রথম দুই থেকে তিন মাস জমি সম্পূর্ণ আগাছা মুক্ত রাখা জরুরী। মাটি শুকিয়ে গেলে সেই মাটিতে নিয়মিত শেষ প্রদান করতে হবে বর্ষাকালে যাতে জমিতে পানি জমে না থাকে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

লতিরাজ কচুঃ  প্রচুর লতি উৎপাদনের জন্য এই কচু সাধারণত চাষ হয়ে থাকে, বাংলাদেশের বিআরআই উদপাদিত লতি রাজ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি জাত, কেননা এই জাতের লতি খেলে গলায় চুল্কায় না বা ধরে না এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই লতিরাজ কচু থেকে লতি পাওয়া যায় । লতি রাজ কচু মূলত পানি ও কাদাযুক্ত স্থানে চাষ করা হয়। সঠিক পদ্ধতিতে এই কচু চাষ করলে রোপনের দুই মাসের মধ্যেই লতি সংগ্রহ করা যায় ।লতিরাজ কচুর জন্য মাঝারি নিচু, আলো বাতাস ঢুকতে পারে এবং উর্বর দো-আঁশ মাটির সবচেয়ে বেশি উপযোগী জায়গা।

কালো কচুঃ কালো কচু মূলত সুরমা কচু নামে বেশি পরিচিত ।এই কচু প্রধানত এর পুষ্টিকর ও সুস্বাদু, কালো শাক এবং ডাটার জন্য বেশিরভাগ চাষ করা হয়ে থাকে। বাণিজ্যিকভাবে মাঠ পর্যায়ে উঁচু জমিতে বা বাড়ির আঙ্গিনায় নরম মাটিতে শুকনো মাটিতে এই কচু খুব ভালো জন্ম । এই কচু মূলত প্রধান বংশবিস্তার হয় গোড়া থেকে গজানোর ছোট ছোট চারা বা শাখার মাধ্যমে।

কাঠ কচুঃ চাষ কাঠ কচু মূলত নিচু জমি বা পরিত্যক্ত ডোবায় যেখানে পানি লেগে থাকে সেই খানে খুব ভালো জন্মে। এই কচুর জন্য এটেল ও বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।  এটি সাধারণত বছরের শেষে ডিসেম্বর মাস এর মাঝামাঝি সময়ে রোপন করতে হয় এবংবা জুলাই এবং আগস্ট মাসের পর থেকেই খাওয়ার উপযোগী হয, এই কচুর কাঠের  সাথে মোটা ডাটা গুলো শাক রান্না করে খেতেও ভীষণ মজাদার হয়ে থাকে।

ওল কচুঃ ওল কচু হলো খুবই পুষ্টিকর মাটির নিচের সবজি, যে সবজি তরকারি ভর্তা বা ভাজি করে খাওয়া যায়। এই কচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আঁশ, ভিটামিন বি ৬ ,ওমেগা অ্যাসিড এবং খনিজ পদার্থ ভরপুর। ওল কচু সাধারণত চাষ করা হয় শুকনো  মাটিতে, যেখানে পানি জমে থাকে না। এরকম জায়গায় ওর কচু চাষ করা হয়। বিশেষ করে বাড়ির আঙ্গিনাতে বা উঁচু জমিতে খুবই ভালো জন্মায়, এটি সাধারণত মাঘ থেকে ফাল্গুন মাসে 

মান কচুঃ  মান কচু বিশাল আকৃতির ডাটা ও কন্দের জন্য বেশ পরিচিত , যেসব জমিতে পানি জমে না, সেসব জমিতে ভালো জন্মে, তবে শক্তমাটি ও ছায়াযুক্ত স্থানেও মান কচু ভালোই হয়। এই কচুতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকার কারণে গলা চুলকাতে পারে তাই রান্নার সময় কচু ছোট ছোট করে কেটে ভালো করে সিদ্ধ করে পানিটা ফেলে নিয়ে রান্না করলেই ভালো হয়।

শোলা কচু ও দুধ কচু চাষঃ এই কচুগুলোর ডাটা বেশ নরম ও সুস্বাদু হয়। রান্নার পরে তুলতুলে ভাবের জন্য এই জাত গুলো বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া জ্বর আসলে এই কচু রান্না করে খাওয়ালে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়।

কচুর চাষের উপযুক্ত সময়

কচুর বিভিন্ন জাত ভেদে বিভিন্ন সময় কচুর চাষ করা হয়, তবে মূলত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস হল কচুর চাষের উপযুক্ত সময়। এছাড়াও আগাম চাষের জন্য অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে ও লাগানো হয়। যেমন:
  • মুখী কচু বা পানি কচু সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে লাগানো হয়ে থাকে ।
  • ওল কচু আগাম চাষের জন্য অক্টোবর থেকে মধ্য-নভেম্বরে লাগানো হয় ।এছাড়া ওল কচুর আরেকটা হলো নাবী চাষ মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে লাগানো হয় ।
  • লতিরাজ কচু জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে লাগানোর উপযুক্ত সময় ।আরেকটা হচ্ছে বর্ষাকালীন মৌসুমে, জুন থেকে জুলাই মাস উপযুক্ত সময়।

আধুনিক ও বিজ্ঞানী পদ্ধতিতে কচু চাষের নিয়ম 


কৃষি ক্ষেত্রে লাভবান হতে হলে আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে চাষ করলে ভালো ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। কচুর চাষ করতে অতিরিক্ত পরিমাণ টাকা-পয়সা খরচ না করলেও আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করলে অধিক মুনাফা আয় করা সম্ভব হয়। এজন্য আপনাকে ভালো মানের কচুর চারা নির্বাচন করতে হবে , পরিমিত সার প্রয়োগ করে সঠিক এ পরিচর্যা করতে হবা।  
  1. মাটি নির্বাচনঃ দো-আঁশ বা পলি মাটি কচু চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো ,এর জন্য আপনাকে জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে ঝুরঝুর করে মাটি সমান  করতে হবে।
  2. রোপনের সময়ঃ  রোপনের সময় সচরাচর ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস ( মার্চ-এপ্রিল) বিশেষ করে কচু লাগানোর উপযুক্ত সময় ,তবে লতিরাজ কচু বা পানি কচু বছরের অন্যান্য সময় লাগানো যায়।
  3. পদ্ধতি বা দূরত্বঃ সুস্থ সবল চারা বা কন্দ নির্বাচন করে নির্দিষ্ট দূরত্বে লাগাতে  হবে ।যেমন এক সারি  থেকে আরেক সারির দূরত্ব প্রায় ২০ থেকে ২৫ ইঞ্চি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫ থেকে ১৮ ইঞ্চি রাখতে পারেন।

কচু চাষে সার ব্যবস্থাপনা ও রোগ-বালাই দমন


কচু চাষে উচ্চ ফলন পেতে হলে সঠিক মাত্রায় সুষম সার প্রয়োগ করা অপরিহার্য, এছাড়াও কচুর বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত যেমন কচুর পাতা পোড়া রোগ, মাজরা পোকা বা লেদা পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হলে সঠিকভাবে পরিচর্চা করতে হয় ।
  • কচু চাষের জন্য জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি প্রচুর পরিমাণে গোবর বা কম্পোস্ট ব্যবহার করতে হয়। সেই সাথে ইউরিয়া, টিএসপি, এমপি, (এমপি বা পটাশ কচুর কন্দ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে) জিপসাম সার পরিমিত মাত্রায়  ২-৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
  • কচু লাগানোর সময় যদিও মাটি শুকনা ঝুরঝুরে রাখতে হয় কিন্তু লাগানোর পরে অবশ্যই কচুর মাটি আর্দ্র ও ভেজা রাখতে হবে। কোনভাবেই যেন কচুর মাটি শুকিয়ে না যায়, চারা রোপনের পর যদি মাটিতে রস না থাকে তাহলে হালকা সেচ দিয়ে জমি কাদা কাদা রাখতে হবে । খরা মৌসুমে সপ্তাহে একদিন জমিতে সেচ দিতে হবে।
  • কচুর রোগ বালাই দমনের জন্য কচু লাগানোর আগে অনুমোদিত কীটনাশক বা ছত্রাক দিয়ে বীজ বা কচুর কন্দ শোধন করে নিতে হবে। কচু পোকা আক্রান্ত ডগা বা পাতা দেখলে কেটে নষ্ট করে ফেলতে হবে । লেদা পোকা দমনে জৈব বালায় নাশক অথবা প্রয়োজন বোধে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও কচুর ক্ষেত নিয়মিত পরিষ্কার করে আগাছা মুক্ত রাখতে হবে এবং গোড়ার মাটি তুলে দিয়ে একটু উঁচু করে দিতে হবে।

কচু চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব 

কৃষি ক্ষেত্রে কচুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিহার্য । বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য কচু চাষ একটি লাভজনক ফসল । অল্প খরচে কচু চাষ করে অধিক পরিমাণে আয় করা যায় । বাড়ির আশেপাশে অনেক ছায়াছন্ন  জমি আছে সেগুলাতে অন্যান্য ফসল ফললালে ভালো উৎপাদন হয় না কিন্তু কচু খুবই সফলভাবে উৎপাদন হয়। এছাড়া কচুতে সাধারণত পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয় ও অন্যান্য গবাদি পশু যেমন গরু, ছাগল কচু গাছ খায় না ফলে কচুতে ঝুঁকির পরিমাণ কম থাকে। 

কচু রোপনের মাত্র দুই মাসের পর থেকেই কচুর লতি, শাক বিক্রি করে নগদ অর্থাৎ আয় করা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে কচু রপ্তানি করা হচ্ছে, বিদেশে কচু রপ্তানি করে অর্থনৈতিক মুদ্রা অর্জন করতে পারছে বাংলাদেশ । বাজারের সব সময় কচু লতি ও কচুর মুখীর বার্ষিক চাহিদা ও দাম ভালো থাকে, যার ফলে কৃষকের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনতে সাহায্য করে।

কচু ও কচুর লতি রপ্তানির সম্ভাবনা 

কচু ও কচুর লতি শুধু বর্তমানে বাংলাদেশেই এর চাহিদা ব্যাপকভাবে না ,সেই সাথে বাংলাদেশের বাহিরেও বিদেশি রাষ্ট্রগুলোতে কচু ও কচুর লতির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা সহ যেসব দেশে বাঙালি প্রবাসীরা থাকে এরকম প্রায় ২৫ টি দেশে রপ্তানি করা হয়।  এবং দক্ষিণেশীয়দের কাছে বাংলাদেশের কচুর লতি ও কচুর মুখীর  অনেক বেশি ডিমান্ড রয়েছে।


বাংলাদেশের-বিভিন্ন-জাতের-কচু

কচুর লতি ও কচুর মুখী ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উন্নত মানের প্যাকেজিং করে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে । যা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। পরবর্তীতে কচু ও কচুর লতি আরো ব্যপকভাবে বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে ,এর জন্য সঠিকভাবে দেশে-বিদেশে কাজ করে যেতে হবে।

হেক্টর প্রতি খরচ ও লাভের হিসাব 

বাণিজ্যিকভাবে কচু ( বিশেষ করে লতি কচু বা ও মুখীকচু) চাষের জন্য প্রতি হেক্টরে আনুমানিক আয় ব্যায়ের একটি ধারণা নিচে ছক আকারে দেওয়া 

খরচের খাত/বিবরণের ধরণ আনুমানিক পরিমাণ/খরচ
জমি প্রস্তুত ও চাষ খরচ ২০,০০০-২৫,০০০ টাকা
বীজ/চারা সংগ্রহ ও রোপণ ৩০,০০০-৩৫,০০০ টাকা
জৈব ও রাসায়নিক সার ৩৫,০০০-৪০,০০০ টাকা
সেচ ও নিস্কাশন ব্যবস্থাপনা ১৫,০০০-২০,০০ টাকা
বালাইনাশক ও পরিচর্চা খরচ ১৫,০০০-১৮,০০০ টাকা
শ্রমিক খরচ ৬০,০০০-৭০,০০০ টাকা
পরিবহন ও অন্যান্য আনুসাংগিক খরচ ১৫,০০০-২০,০০০ টাকা
সর্বমোট উৎপাদন খরচ (আনুমানিক) ১,৯০,০০০-২,২৮,০০০ টাকা
আনুমানিক গড় ফলন(লতি ও কচু মিলিয়ে) ২৫-৩০ টন (প্রতি হেক্টর)
গড় বাজার মুল্য (প্রতি কেজি২৫-৩০ টাকা হিসাবে) ৬,২৫,০০০-৯,০০,০০০ টাকা
নিট মুনাফা ( মোট আয়-মোট খরচ) ৪,২৫,০০০-৬,৭২,০০০ টাকা ( আনুমানিক)
(কচুর হেক্টর প্রতি চাষের খরচ ও লাভের যে আনুমানিক হিসাবটি দেয়া হলো ,এটি বাজারদর, চারার দাম এবং শ্রমিক খরচের উপর ভিত্তি করে জেলা বা এলাকা ভেদে হিসাবে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।) 

কচুর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

অন্যান্য ফসলের তুলনায় কচুতে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ রয়েছে । বিশেষ করে কচুর শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ , ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে, এছাড়াও যাদের রক্তশূন্যতা রয়েছে তারা কচুশাক নিয়মিত খেতে পারেন, কচুর শাকে রয়েছেন প্রচুর পরিমাণে আয়রন, কচুতে থাকা নানা রকম ভিটামিন যা গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন্য দারুন উপকার করে । এছাড়া কচুশাক সহজলভ্যতা হওয়ার কারনে দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী নারীরা প্রচুর পরিমাণে কচু শাক খেতে পারেন এতে শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে।
  
রক্তশূন্যতা দূর করেঃ কচু ও কচু শাকে রয়েছে  উচ্চ মাত্রায় আয়রন যা বডিতে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে এবং রক্তশূন্যতা দূর করতে দারুন কার্যকর।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখেঃ কচু শাকে থাকা ভিটামিন এ ও সি শরীরের জন্য খুবই ভালো একটি পুষ্টি, বিশেষ করে ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। আর ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

হজম শক্তি বাড়ায়ঃ কুচুতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার বা আঁশ, হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে এবং যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তারা নিয়ম করে কচু শাক খেলে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ।
কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ কমায়ঃ যাদের রক্তের কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে এবং উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তারা নিয়ম করেন কচু শাক খেলে তাদের খারাপ কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

উপসংহারঃ বাণিজ্যিক কৃষিতে কচুর ভবিষ্যৎ 

কচু উচ্চ ফলনশীল সবজি হওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এটি একটি ভূমিকা রাখছে। কেননা কচু চাষের অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হয় না, এছাড়া বর্তমানে প্রায় দেখা যাচ্ছে শিক্ষিত বেকার যুবকেরা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করছে বিশেষ করে লতিরাজ কচু চাষ করছে এবং এই কচু ও প্রচুর লতি এবং বিদেশের রপ্তানি করছে । সরকারের সাথে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি উন্নত জাতের কচু সরবরাহ এবং বাজারজাতকরণ সুবিধা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে তাহলে বাংলাদেশে কচুশিল্পে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

bosontobouryনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Tania Akter
Tania Akter
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অর্ডিনারি আইটির শিক্ষার্থী। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ২ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।