আপনি কি ভোটার আইডি স্থানান্তর করতে চান? জানুন বিস্তারিত
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র এটি একটিমাত্র পরিচয় না, ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র একটি রাষ্ট্রীয় দলিল এবং এটি নাগরিক অধিকারের মূল ভিত্তি । অনেকেই ভোটার আইডি স্থানান্তর করতে চায় কিন্তু জটিলতার ভয়ে করে না ।
বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়েরা বিয়ের আগে ভোটার হলে তারা বাবার বাড়িতে ভোটার হয় কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের পরে স্বামীর বাড়িতে ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করতে চায়। আবার অনেকে আছে চাকরির জন্য এক জায়গায় ভোটার হয় কিন্তু পরবর্তীতে স্থায়ী জায়গায় ভোটার ট্রান্সফার করতে চায়। অনেকেই ঝামেলার ভয়ে ভোটার ট্রান্সফার করতে চান না কিন্তু ,ভোটার আইডি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই স্থানান্তর করা যায় ।
আজকে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানবো কিভাবে ভোটার আইডি স্থানান্তর করা যায়, এর যাবতীয় জটিলতা ও সমাধান।
সূচিপত্রঃ ভোটার আইডি স্থানান্তর বিষয়ে বিস্তারিত
- ভোটার আইডি কার্ডের গুরুত্ব
- ভোটার আইডি কার্ড কি স্থানান্তর করা সম্ভব?আইনি ব্যাখ্যা
- এনআইডি কার্ডের এলাকা পরিবর্তন বা ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়া
- অনলাইনে ভোটার আইডি স্থানান্তরের ধাপসমূহ
- ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন করার নিয়ম
- হারিয়ে যাওয়া আইডি পুনরায় সংগ্রহের উপায়
- ভোটার আইডি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র
- সতর্কতা: অবৈধ স্থানান্তর জালিয়াতের আইনি পরিণতি
- বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য এনআইডি সেবা
- উপসংহারঃ সঠিক তথ্যের গুরুত্ব
ভোটার আইডি কার্ড এর গুরুত্ব
বাংলাদেশে ভোটার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট । কেননা সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে ভোটার আইডি কার্ডের কোন বিকল্প নাই। এছাড়া রয়েছে ব্যাংকের একউন্ট খোলা, পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য, জমি কেনাবেচা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন হয়।
এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে সরকার ভোটার আইডি কার্ডটি স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরিত করেছে ,যা অধিকতরও নিরাপদ ।
ভোটার আইডি কার্ড কি স্থানান্তর সম্ভব? আইনি ব্যাখ্যা
প্রথমে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার , ভোটার আইডি কার্ড কখনো মালিকানা পরিবর্তন করা যায় না অর্থাৎ আপনার আইডি কার্ড অন্য কেউ নিজের নামে ব্যবহার করতে পারবে না। তবে স্থানান্তর করা যাবে, স্থানান্তর শব্দটির মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে।
আপনি আপনার নিজের ভোটার এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তর করতে পারবেন ।মানে আপনি আপনার সুবিধামতো জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন । তবে সেটি আইনিভাবে নিতে হবে বা নেওয়া সম্ভব এবং নির্বাচন কমিশন সেই সুযোগ সুবিধা প্রদান করে থাকেন ।
এনআইডি কার্ডের এলাকা পরিবর্তন বা ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়া
আপনি যদি এক জায়গায় স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাস করার সময় ও এলাকা ভোটার হন, কিন্তু পরবর্তীতে আপনি ওই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকার স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান , তখন আপনার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা জরুরী। এই ভোটার এলাকা পরিবর্তন করাকে মূলত প্রচলিত অর্থে বলে ভোটার স্থানান্তর ।
প্রশ্ন: কেন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে হবে ?
উত্তর: স্থানীয় নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে হলে এবং স্থানীয় নাগরিকের সুযোগ সুবিধা পেতে হলে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা প্রয়োজন ।
প্রশ্ন: কিভাবে আবেদন করা যাবে ?
উত্তর: এটি উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে সরাসরি বা অনলাইন এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইনে ভোটার আইডি স্থানান্তরের ধাপসমূহ
বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই আপনি আপনার ভোটার আইডি স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- রেজিস্ট্রেশন: রেজিস্ট্রেশনের জন্য আপনাকে প্রথমে services.nidw.gov.bd পোর্টালে গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে ।
- ফরম পূরণ: তারপর ১৩ নং ফর্ম (ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফরম )সংগ্রহ বা অনলাইনে ফরম পূরণ করতে হবে ।
- ঠিকানা প্রদান: আপনি বর্তমানে যে এলাকার ভোটার হতে চান সে এলাকার বিস্তারিত তথ্য আপনাকে প্রদান করতে হবে।
- ডকুমেন্ট আপলোড: সর্বশেষ বর্তমান এলাকার আপনি যে এলাকার ভোটার হতে চান সেই এলাকার বিদ্যুৎ বিল বা গ্যাস বিলের কপি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের / কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন পত্র আপলোড করতে হবে।
ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন করার নিয়ম
প্রায় সময় দেখা যায় ভোটার আইডি কার্ডের নাম ,জন্ম তারিখ বা পিতামাতার নাম এগুলো ভুল থাকে। এক্ষেত্রে এই ভুলগুলো সংশোধন করা খুবই জরুরী ।
সাধারণ ভুল : সাধারণ ভুল বলতে বুঝায় নামের বানানের সামান্য পরিবর্তন করা ।
বড় ধরনের ভুল: বড় ধরনের ভুল বলতে বুঝায় যেমন পুরো নামই এই পরিবর্তন করা ।
সমাধান: সমাধানের উপায় হচ্ছে এক্ষেত্রে যদি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা
এইচএসসি সার্টিফিকেট থাকে তা জমা দেওয়া। অথবা যাদের সার্টিফিকেট না থাকে তারা
জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করবে।
হারিয়ে যাওয়া এনআইডি কার্ড পুনরায় সংগ্রহের উপায়
আপনার এনআইডি কার্ডটি যদি হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনি আতঙ্কিত না হয়ে সমাধানের চেষ্টা করুন । এজন্য আপনাকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে ।
- প্রথমতঃ আপনাকে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে হবে।
- দ্বিতীয়তঃ আপনাকে অনলাইন পোর্টালে গিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান করতে হবে।
- (ভোটার আইডি সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেন শুধুমাত্র সরকারি মাধ্যম রকেট, বিকাশ , ওকে ওয়ালেট বা ব্যাংক পরিশোধ করুন ।কোন ব্যক্তিগত বিকাশে টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হবেন না)
- তৃতীয়তঃ আপনাকে জিডি কপি সাধারণ ডায়রির কপির স্ক্যান কপি আপলোড করে পুনরায় কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে ।
ভোটার আইডি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি বা কাগজপত্র
ভোটার আইডি স্থানান্তর বা তথ্য সংশোধনের জন্য নিচের কাগজগুলো প্রয়োজন ।
- সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিক সনদপত্র (যে এলাকায় বর্তমানে বসবাস করবেন সে এলাকার নাগরিকত্ব)
- বাসা ভাড়ার চুক্তি অথবা ইউটিলিটি বিল।{বিদ্যুত বিল, গ্যাস বিল, ইন্টারনেট বিল}
- ড্রাইভিং লাইসেন্স ,যদি থাকে।
- অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদের ডিজিটাল কপি
সতর্কতাঃ অবৈধ স্থানান্তর জালিয়াতের আইনি পরিণতি
একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, আপনার নিজের আইডি কার্ড অন্যকে ব্যবহার করতে দিবেন না বা অন্যের দেয়া তথ্য নিজের বলে চালাবেন না । এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী এ ধরনের জালিয়াতি জন্য > জেল এবং বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা হতে পারে। তাই সব সময় অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করুন এবং দালালের খপ্পর থেকে দূরে থাকুন ।
বিদেশ অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য এনআইডি সেবা
বিদেশে অবস্থানরত অর্থাৎ প্রবাসীদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পরিচয় পত্র এনআইডি সেবা ২০১৯ সাল থেকে ধাপে ধাপে চালু করেছেন। এ সেবা প্রথম শুরু হয় শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে । বর্তমানে বেশ কিছু দেশ যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত ,যুক্তরাজ্য, সৌদি আরবে কার্যক্রম চালু হয়েছে ।প্রবাসীরা তাদের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন হতে পারবেন।
উপসংহারঃ সঠিক তথ্যের গুরুত্ব
আইনি সুরক্ষা পেতে হলে একটি নির্ভুল ভোটার আইডি কার্ড একজন সচেতন নাগরিকের দরকার । একটি নির্ভুল ভোটার আইডি কার্ড একজন নাগরিকের পরিচয় বহন করে । আপনার আইডি কার্ডের তথ্য যদি বর্তমান অবস্থানের সাথে মিল না থাকে তবে আজই তা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করুন। মনে রাখবেন ,সঠিক উপায়ে তথ্য আপডেট করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। কেবলমাত্র সঠিক তথ্যই পারে আপনাকে আইনি সুরক্ষা দিতে।
আমি একজন পেশাদার কন্টেন্ট রাইটার এবং ব্লগার। । আমার এই ব্লগের মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠকদের কাছে সঠিক, যাচাইকৃত এবং সহজবোধ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া।আমার লেখা যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে ,তাহলে কমেন্ট করে অনুপ্রেরণা দিবেন আশা রাখছি। বিশেষ করে যারা ঘরে বসে কাজ করতে চান বা ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার শিখতে চান, তাদের জন্য আমি নিয়মিত গবেষণামূলক আর্টিকেল লিখে থাকি। আমার লেখা আপনার উপকারে আসলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।"
.webp)
bosontobouryনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url