চুল পড়া বন্ধ করার প্রাকৃতিক উপায়

 

চুল পড়া বন্ধ করা একদিনে সম্ভব না আর চুল পড়াও একদিনে শুরু হয়নি ।তাই একদিনে চুল পড়া বন্ধ করা যায়না, বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল পড়ে  কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বয়সের তুলনায়  অতিরিক্ত চুল পড়ার প্রবণতা দেখা যায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে।

পুষ্টিকর খাদ্য অভ্যাস করতে হবে। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে ।শাকসবজি খেতে হবে ।পর্যাপ্ত ঘুমানো প্রয়োজন, তারপর ক্যামিকেল যুক্তচুল কালার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সূচিপত্রঃ চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়ার কারণ।

চুল পরা একটা সাধারন সমস্যা, তবে অতিরিক্ত চুল পড়া চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত টেনশন ,চুলের সঠিক যত্ন না নেওয়া, হরমোন সমস্যার  ,পানির সমস্যা , চুল কালার করার জন্য বিভিন্ন ক্যামিকেল ব্যবহার করার কারণে চুল পড়ে যায়।

এছাড়া আরো অনেক কারণ রয়েছে চুল পড়ার ,অনেক সময় টাইফয়েড জ্বরের কারণে মাথার চুল পরে যায় বংশগত কারনেও চুল পরে যায়।

ঘরোয়া উপায়ে চুল পরা বন্ধ করার উপায়

ঘরোয়া উপায়ে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে চুল পড়া কমানো যায় ।যেমন নারকেল তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করবেন।

মেথি ব্যবহার করতে পারেন,  ডিমের মাস্ক  লাগাতে পাওয়া যায় ডিমের সাদা অংশ চুলে লাগালে চুল নরম ও মজবুত হয়।

এলোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন এলোভেরা জেল ব্যবহার চুল পড়া কমিয়ে চুলকে মজবুত করে তোলে, জবা ফুলের রস ব্যবহার করে চুলকে মজবুত করা যায়।

চুল পড়া বন্ধে খাদ্য অভ্যাসের গুরুত্ব

পুষ্টিকর খাদ্য যেমন সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরী তেমন চুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।সাস্থ্যকর খাবার চুলকে মজবুত করে ,চুলের যত্নে প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন ডিম, দুধ বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ ,ডা্‌ শাকসবজি ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার। লেবু, কমলা এবং বেশি বেশি পানি পান করতে পারে

চুল পড়া বন্ধে  নিয়মিত তেল ব্যবহার 

 নিয়মিত তেল ব্যবহারের ফলে চুল পড়া কমানো যায়। নারকেল তেলের সাথে লেবু মিশিয়ে মাথায় মেসেজ করা যায়। মেথি সারারাত ভিজিয়ে পেস্ট করে তেলের সাথে নিয়মিত ব্যবহার কর যায়। ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করা যায়। ক্যাস্টর অয়েল চুলের ঘনত্ব বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর ।

আরো পড়ুনঃশিশুর হাম হলে করণীয় বাঁ প্রতিকার

 চুল পড়া বন্ধে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার

চুল পড়া কমানোর জন্য মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন, কেননা সাধারণ শ্যাম্পু প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে চুলকে রুক্ষ করে তোলে, কেমিক্যাল যুক্ত শ্যাম্পু চুলের গোড়া দুর্বল করে ফেলে যার ফলে চুল পড়ে যায়। মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করে এ সমস্যাগুলো হয় না।যাদের এলার্জির সমস্যা আছে  আছে তাদের জন্য মাইল্ড শ্যাম্পু নিরাপদ। সাধারণ শ্যাম্পু প্রতিদিন ব্যাবহার করা যায় না। কিন্ত যারা প্রতিদিন বাহি্র হোন তারা চাইলে প্রতিদিনচমাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারবেন।

ঘরে তৈরি রিঠা বা আমলকির পানিও প্রাকৃতিক মাইল্ড শ্যাম্পু হিসেবে চমৎকার কাজ করে। 

সুস্থ্য চুলের জন্য মাথা পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। সপ্তাহে অন্তত দুইবার মাথায় শ্যাম্পু করবেন। অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন

মানসিক চাপ কমান

অনেক সময় অতিরিক্ত টেনশন অতিরিক্ত টেনশন যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তেমন চুলের জন্য ক্ষতিকর অতিরিক্ত টেনশনের ফলে ঘুম কম হলেও চুল ভেঙ্গে চুল ঝরে যায়।

চুল পড়া রোধে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। যাদের ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ বেশি, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা তাদের চুল পড়া সমস্যা বেশি।অতিরিক্ত স্ট্রেসের সময় শরীরে কটিসল নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, এই হরমোন চুলের ফলিকের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। 

ভেজা চুল আচড়াবেন না

 চুল পড়া কমাতে হলে কখনোই ভেজা চুল আঁচড়ানো ঠিক না ।কেননা ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম হয়ে থাকে।তখন চুল  আচড়ালে চুল ভেঙে যায়,ভেজা  চুলে তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে ঘষবেন না, হালকা হাতে চেপে চেপে চুল মুছবেন  ।তা না হলে চুলের আগা ফেটে যায়।


প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাক ব্যবহার করি 

চুলের যত্নে রাসায়নিক উপকরণ এর চেয়েও প্রাকৃতিক হেয়ারপ্যাক সবচেয়ে ভালো ও কার্যকর। বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে দারুণ সব প্যাক তৈরি করতে পারবেন। 

চুল পড়া বন্ধে মেথি ও কারি পাতার প্যাক ব্যবহার করতে পারেন, মেথি ও  কারি পাতা চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।

উজ্জল ও সিল্কি চুলের জন্য কলা ও মধুর প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। চুল অতিরিক্ত রুক্ষ ও শুষ্ক তাদের জন্য এটি সবথেকে ভালো। খুশকি দূর করতে টক ও লেবুর হেয়ার প্যাক ব্যাবহার করতে পারেন। ফাঙ্গাস ও পুষ্টির সমস্যা থাকলে একটি অত্যন্ত কার্যকর ।এর জন্য ডিম ও অলিভ অয়েল এর প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। আপনার চুল নির্জীব হয়ে থাকে, তবে প্রোটিন প্যাক প্রয়োজন। 

হেয়ার প্যাক ব্যবহারে কিছু জরুরি নিয়ম রয়েছে ,যেমন হেয়ার প্যাক সব সময় পরিষ্কার চুলে লাগাবেন। তেল যুক্ত চুলে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করবেন না, কেননা এই হেয়ার প্যাক চুলের ভিতর তখন পৌছাতে পারেনা।

হেয়ার প্যাক চুলে লাগিয়ে খুব বেশি শুকিয়ে ফেলবেন।হালকা ভেজা অবস্থাতেই ধুয়ে ফেলবেন। নয়তো ধোয়ার সময় চুল ছিড়ে যেতে পারে। চুল পরিষ্কার করার জন্য প্রথমে প্রচুর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন তারপর সামান্য পরিমাণ মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন।ভালো ফলাফলের জন্য অবশ্যই নিয়মিত সপ্তাহে অন্তত একদিন ঘরোয়া যে কোন একটি প্যাক ব্যবহার করবেন।

খুশকি থাকলে আগে চিকিৎসা করুন 

চুল পড়া বন্ধের যে কোন ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করার আগে অবশ্যই খুশকি দূর করা অত্যন্ত জরুরি। মাথায় খুশকি থাকা অবস্থায় কোন ট্রিটমেন্ট পৌছতে পারেনা। তাই খুশকি থাকলে আগে চিকিৎসকের  পরামর্শ নিন। খুশকি থাকা অবস্থায় মাথায় ত্বকে কোন তেল বা হেয়ার প্যাক লাগান তখন এই পুষ্টি চুলের গোড়ায় পৌঁছাতে পারেনা।

 চুলকানি ও ইনফেকশন এর কারণে মাথায় চুলকানি হয়। খুশকি চুলের গোড়া দুর্বল করে। খুশকি চুলের গোড়া  পাতলা করে দেয় তখন মাথার চুল নরম হয়ে চুল পড়ে যায়।

ঘরোয়া এর কিছু সমাধান রয়েছে, যেমন নিমের বাতাসিদ্ধ করা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিলে খুশকি ও মাথার ত্বকের ইনফেকশন দ্রুত কমে যায় এটি একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক মেডিসিন 

লেবু নারকেল তেল মিশিয়ে মেসেজ করুন।তারপর ২০ মিনিট ধুয়ে ফেলুন,এটি খুশকি দূর করতে সাহায্য করে, ভিনেগারের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে মাথার ত্বকে স্প্রে করুন ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন,চুলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ও ফাংগাস জন্মাতে বাধা দেয় ।

উপসংহার

ঘরোয়া চিকিৎসা রাতারাতি ফল দেয় না এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য।সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো ব্যাবহার করুন ।তারপর দেখেন কয়েক মাসের মধ্যেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় ।


আমার ব্লগটি যদি ভালো লেগে থাকে, তাহলে ভালো ভালো কমেন্ট করে অনুপ্রেরণা দিয়ে সহায়তা করুন। আমি যেন আরো  ভালো কিছু লিখে আপনাদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারি ।আমার লেখা পড়ে যেন আপনাদের উপকার হয় সেই চেষ্টাই করে যেতে পারি।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

bosontobouryনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Tania Akter
Tania Akter
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অর্ডিনারি আইটির শিক্ষার্থী। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ২ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।