জৈব বালাইনাশক হিসেবে মেহগনি ফলের ব্যবহার ফলের ব্যবহার।
কৃষি জমিতে ফসলের রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। বর্তমান যুগে রাসায়নিক কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে তেমনি আমাদের স্বাস্থ্য বাড়ছে। এই সমস্যার সমাধানের জৈব বালাইনাশক হিসাবে মেহগনি গাছের ফলের থেকে তৈরি কীটনাশক খাতে এক বিপ্লব নিয়ে এসেছে, এতে থাকা লিমোনয়েডস নামক তেতো উপাদান পোকামাকড় দমনে সাহায্য করে।
সূচিপত্রঃ জৈব বালাইনাশক হিসেবে মেহবুনির্ভরের ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হল ।
- মেহগনি ফল কি?
- মেহগনি ফলের কার্যকারিতা রহস্য
- মেহগনি গাছের ফল দিয়ে বালাইনাশক তৈরি নিয়ম ।
- ব্যবহারের নিয়ম ও সঠিক সময়।
- মেহগনি বালাই নাশক ব্যবহারে পাঁচটি বড় সুবিধা।
- সতর্কতা
- কোন কোন পোকা দমনে এটি কার্যকর
- কোন কোন ফসলে ব্যবহার করা যায়
- ফলের কার্যকারিতা
- উপসংহার
মেহগনি ফল কি?
মেহগনি গাছ মূলত কাঠের জন্য পরিচিত। তবে এই গাছের ফল ও বীজ অনেক উপকার আসে,মেহগনি ফল দেখতে গোল ডিম্বাকৃতির মতোএক ধরনের বীজ দেখা যায়। মেহগনি ফলের বীজে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে এই উপাদান গুলো অনেক ধরনের পোকামাকড় বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার কমাতে সাহায্য করতে পারে ।এজন্য কৃষি ক্ষেত্রে এটি একটি প্রাকৃতিক বালায়নাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
মেহগনি ফলের কার্যকারিতা রহস্য
মেহগনি ফলের মধ্যে উপস্থিত এন্টিঅক্সিডেন্ট ও কিছু ভেষজ রাসায়নিক উপাদান পোকামাকড়ের বংশবৃদ্ধি রোধ করে ,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং জমির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। তাই এটি একটি প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হলে তা মাটির কোনো ক্ষতি করেনা। পরিবেশে উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে না এবং দীর্ঘমেয়াদে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
এটি শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব নয় এ বরং কৃষিতে ট্যাগসই নিরাপদ ব্যবস্থাপনার জন্য
একটি দারুণ সমাধান হতে পারে।ফসলের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ ।
মেহগনি গাছের ফল দিয়ে বালাইনাশক তৈরি নিয়ম
প্রথমে শুকনো মেহগনি ফল সংগ্রহ করে ভেতর থেকে বীজ বের করুন ।এবার বীজগুলো ভালো করে থেতলে গুরু করে নিন। একটি বড় পাত্রে চার থেকে পাঁচ দিন ঢেকে রাখুন ।একটি পাতলা কাপড় দিয়ে ছেকে নিন। সামান্য ডিটার্জেন্ট যুক্ত পানি মিশিয়ে স্প্রে করুন। এটি গাছের পাতায় নির্যাস থেকে লেগে থাকতে সাহায্য করে।
ফলের কার্যকারিতা
কার্যকারিতা উপাদান পোকামাকড় দমনে খুবই কার্যকর ।মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগের ঔষধ ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যেমন ডায়াবেটি্, উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। হজম শক্তি উন্নত করে। শরীরে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।
ব্যবহারের নিয়ম ও সঠিক সময়;
ব্যবহারে নিয়ম হচ্ছে এক লিটার পানির সাথে ১০ লিটার পানি মিশিয়ে পাতলা করে স্প্রে করতে হবে।
আর সময় হচ্ছে বিকাল বেলা বা যে সময় রোদ্রের তাপ কম থাকে তখন স্প্রে করতে হবে । করা রোদে স্প্রে করলে গাছের পাতার ক্ষতি হতে পারে ।একটি ছোট্ট অংশ পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করে নেওয়া উচিত ।
কোন কোন পোকা দমনে এটি কার্যকর
বিভিন্ন গবেষণা দেখা গেছে ধানের মাজরা পোকা ,লেদা পোকা, সাদামাছি এবং পিঁপড়া দমন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
কোন কোন ফসলে ব্যবহার করা যায়;
যেসব ফসলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় তা হল, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে
যে ধান, সবজির গাছ ,বাগানের গাছপাল্ ফলের গাছে ব্যবহার করা যায়।
থিম ফিচার ফ্রি ভার্সন প্রো ভার্সন ডকুমেন্টেশন
সতর্কতা,
মেহগনি ফলের বালাইনাশক ব্যবহার করার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত। যেমন, অতিরিক্ত ঘন মিশ্রণ ব্যবহার করা উচিত নয়, স্প্রে করার সময় মাত্রা বজায় রেখে স্প্রে করা উচিত ,প্রথমে ছোট পরিসরে ব্যবহার করে ফলাফল দেখে তারপর বড় পরিসরে ব্যবহার করতে হবে।
মেহগনি বালাই নাশক ব্যবহারে পাঁচটি বড় সুবিধা।
- সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফসল পাওয়া যায়
- , ফলের বালাইনাশক তৈরি করতে অনেক টাকা খরচ করতে হয় না, অত্যন্ত সাশ্রয় ও সহজলভ্য
- মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে না, মাটির উর্বরতা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- উপকারী পোকাদের কোনো ক্ষতি করে না
- ,মেহগনির নির্যাস শুধু ক্ষতিকর পোকাদের আক্রমণ করে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে বাধা দেয়।
bosontobouryনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url